সম্পাদকীয়

সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিন

সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় দরিদ্রের সহায়তাকল্পে সরকারের ভিজিএফ ও ভিজিডি কর্মসূচির সুফল ভোগ করছে সচ্ছল ব্যক্তিরা। এমন দুর্ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়ে পরিচালিত সম্পদ ও আয়বৈষম্য কামানোর বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম থেকে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। আবার বাজেটের যে পরিমাণ অর্থ এই খাতে খরচ করা হচ্ছে, তা সন্তোষজনক নয়। ফলে অন্য দেশের চেয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা পাচ্ছে তুলনামূলক সীমিতসংখ্যক মানুষ। ফলে ধনী-গরিবের বৈষম্য দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। দেশে বিদ্যমান বাজার অর্থনীতিতে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তত্ত্ব কার্যত সমাজের সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপর্যাপ্ত সুশাসন এবং শিল্প-ব্যাংক মালিকের একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যে অসৎ আমলা-ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদের বন্ধন এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। এ সংকট সমাধানে রাষ্ট্রজনকে অবশ্যই উদ্যোগ নিতে হবে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এশিয়ার ২৫টি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমবিষয়ক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মাত্র ১৬ দশমিক ছয় শতাংশ মানুষ এই সুবিধা পায়, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব দরিদ্রের এই সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আনার পরিকল্পনা বিষয়ে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জিইডি’র জ্যেষ্ঠ সচিব আশা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ এই খাতে জিডিপির মাত্র এক দশমিক সাত শতাংশ ব্যয় করছে। অথচ নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ব্যয় করে। সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে গেলে বাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতি কমিয়ে সুশাসন বাড়াতে হবে। আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের বন্ধন শুভকর হয় না এক্ষেত্রে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এখানে সামাজিক সুরক্ষার প্রথাগত কর্মসূচির পাশাপাশি সার্বজনীন পেনশন, বেকার ভাতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি ব্যবস্থা বাড়ানো যেতে পারে। দেশে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধাব ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ প্রায় ১৪৫টি এমন কর্মসূচি চালু থাকলেও টানাটানি, সমন্বয়হীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে; দুর্নীতির অভিযোগ চরমে। এসব সংকট মিটমাট করতে না পারলে নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বলবৎ করা সম্ভব হবে না।
এই পরিস্থিতি মিটমাট করতে সামাজিক নিরাপত্তাকল্পে ব্যয় বাড়ানোসহ শুদ্ধাচার চর্চা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং বাজার অর্থনীতিকে অবশ্যই সামাজিক সমতা কৌশলে আনতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত।

সর্বশেষ..