সম্পাদকীয়

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অপচয় রোধ করুন

দ্রুত নগরায়ণ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচির আলোকে প্রধান ঝুঁকিগুলোকে মোকাবিলা করতে হবে। গত কয়েক বছরে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বহির্বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কর্মসূচির বৃদ্ধিতে বিক্ষিপ্তভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ লক্ষ্য, লোপাট, অপচয়, আন্তঃমন্ত্রণালয়ভিত্তিক সমন্বয়ের অভাবে কর্মসূচির দ্বৈততা ঘটছে। ফলে সুবিধাভোগীর আওতা তুলনামূলক কম হচ্ছে। 

রোববার ‘করোনার প্রভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে বক্তাদের বক্তব্যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনিয়ম বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এমন অনেকে ভাতা পাচ্ছেন, যাদের পাওয়ার কথা নয়। যাদের পাওয়া উচিত, এমন বাদ পড়ছেন প্রায় ৪৬ শতাংশ। তার মানে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বড় ধরনের অপচয় হচ্ছে।

কোনোভাবেই শ্রেণিগত অসাম্য কিংবা অঞ্চল বৈষম্য যেন না হয়। দেখা গেছে, কোনো এলাকায় দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশ, আবার কোনো এলাকায় ৭১ শতাংশ। জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে অবস্থাপন্ন ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা সুবিধাভোগীদের তালিকায় স্থান পাচ্ছেন। ফলে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়ে গেছে। দরিদ্রদের যে অংশকে বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় আনা যায়নি, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ধনাঢ্য পরিবারের যে সদস্যরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের বাদ দিতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুফল পাবে না সাধারণ হতদরিদ্র মানুষ।

বিপুল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত রেখে কিংবা হতদরিদ্র কর্মহীন রেখে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়া গৌরবের নয়। সামাজিক সুরক্ষার জন্য বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার যা বরাদ্দ হয়, তাও যথাযথ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে না। কাউকে বঞ্চিত ও  পেছনে রেখে উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক নিরাপত্তা-সেবার নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীরা সঠিকভাবে নির্বাচিত হন না। আত্মীয়স্বজনরাই প্রাধান্য পায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। পেনশনকে সার্বজনীন করা যায় কি না, অন্তত যারা কর দেন, তাদের পেনশন দেয়া যেতে পারে।

সামাজিক নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষে যাতে আয়বর্ধক কোনো কাজে জড়িত হতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, কারা দরিদ্র, কাদের সহায়তা প্রয়োজন, অর্থাৎ সমাজের ঠিক মানুষটির কাছে সহায়তা পৌঁছাতে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিধবা, নদীভাঙান কবলিত হতদরিদ্র, বয়স্ক নারী-পুরুষের সারাজীবন সাহায্যের প্রয়োজন। আবার একটু অর্থ সহায়তা পেলে যারা স্বাবলম্বী হবেন, তাদের পাশেও দাঁড়াতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের বণ্টন যৌক্তিক হতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অপচয় রোধ করতে হবে। যারা অন্যায়ভাবে যোগ্য ব্যক্তিকে বঞ্চিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..