শেষ পাতা

সামান্য কমছে সবজি ও আলুর দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় দুই মাস ধরে চড়া ছিল শাকসবজির বাজার। পাশাপাশি অস্থির আলুর বাজারও। তবে এবার সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা দাম কমেছে শাকসবজির ও আলুর দাম। আর অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, মাংস, চাল, ডাল ও পেঁয়াজ-রসুনের দাম। আগের দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলেও দাম কমেছে সোনালি মুরগির।

গতকাল রাজধানীর বাজার থেকে অনেকেই ৪৫ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে পেরেছেন। পাঁচ টাকা কমে আলু পাওয়ায় ক্রেতাদের অনেকেই খুশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধীরে ধীরে আলুর দাম আরও কমে আসবে।

রাজধানীর মানিকনগরে থাকেন আবুল হাসান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। করোনার কারণে তার বেতন অর্ধেক কমেছে। কিন্তু আলু দাম ৬০ টাকা হওয়ায় বড় বিপদে ছিলেন। তিনি বলেন, ৪৫ টাকায় এক কেজি আলু পাওয়া অনেকটাই ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। তার ধারণা ছিল, বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম আরও বাড়বে। তিনি হয়তো সবজি কিনতেই পারবেন না। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, সবজির দামও এ বৃষ্টির মধ্যে নতুন করে বাড়েনি।

এ প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী নাছির বলেন, মাস খানেকের মধ্যে আলু ৩৫ টাকায় নেমে আসতে পারে। একইভাবে শীতের সবজির দামও কমে আসবে।

খুচরা বাজারে আলুর দাম আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামের নিচে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শুধু আলুই নয়, আমদানি করা পেঁয়াজের দামও কমেছে। চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকা। টিসিবির হিসাবে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এছাড়াও দাম কমার তালিকায় রয়েছে চাল, ডাল, মুরগি ও জিরা।

এদিকে সবজির দাম নিয়ে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবজি সরবরাহ থাকলেও দাম কমায় না বিক্রেতা, তবে বাজার মনিটরিং বাড়াতে দাম কিছুটা কমিয়েছেন তারা। আর বিক্রেতা বলছেন, অভিযানের কারণে নয় সবজির সরবরাহ বৃদ্ধিতে দাম কিছুটা কমেছে।

রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, ফকিরেরপুল, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বাজার, খিলগাঁও বাজার, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা এবং মগবাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

এসব বাজারে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে প্রতি কেজি কচুরলতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০, গাজর ৭০ থেকে ৮০, ধনিয়া পাতা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। আর কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে প্রতি কেজি মানভেদে ঝিঙা-ধন্দুল-চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫, বেগুন ৬০ থেকে ১০০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০, কচুর ছড়া ৫০ ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

দাম অপরিবর্তিত আছে কাঁচামরিচ, করলা, উচ্ছে, পটোলের। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৯০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা কেজি দরে।

প্রতি হালিতে ১০ টাকা কমে কাঁচাকলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, প্রতি পিস জালি কুমড়া ৪০ টাকা ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

সবজির দাম নিয়ে টিঅ্যান্ডটি বাজারের ক্রেতা মাসিম গুড্ডি জানান, বাজারে আগেও সবজি ছিল এখনও আছে, তবে বাজার মনিটরিং করায় কিছুটা দাম কমিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার হলে শুধু সবজি নয় অন্য সব কিছুর দামও কমে আসবে।

টিঅ্যান্ডটি বাজারের সবজি বিক্রেতা বকুল বলেন, কোনো অভিযানের ফলে দাম কমেনি। বাজারে সবজির ঘাটতি ছিল এখন সরবরাহ বাড়ছে। সরবরাহ এভাবে বাড়লে আরও দাম কমে আসবে বলে জানান তিনি।

আগের বাড়তি দাম রয়েছে ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে। বাজারে খোলা ভোজ্যতেলের দাম কমার কথা থাকলেও তা আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এ বাজারে প্রতি কেজি ডাবলি ও অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১২০ টাকা আর চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা।

আগের চড়া দাম রয়েছে চালের বাজার। এসব বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, পায়জাম ৪৮, মিনিকেট ৫৮, জিরা মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬, নাজিরশাইল ৫৫, পোলাও চাল (খোলা) ৯৫ থেকে ১০০ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, বকরির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা আর গরু মাংস ৫৫০ টাকা ও মহিসের মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে।

আগের দামে ব্রয়লার ও লেয়ার বিক্রি হলেও দাম কমেছে সোনালি মুরগির। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৪০ টাকায়।

কেজিতে ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। বিক্রি কম হওয়ায় দেশি ও সোনালি মুরগির দাম কমেছে বলে জানান খিলগাঁও বাজারের মুরগি বিক্রেতা বোরহান।

অপরিবর্তিত আছে মাছের বাজার। এসব বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৮০, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৫০, পাঙাশ ১০০ থেকে ১৬০, কাতল ১৭০ থেকে ২৮০, তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৫০, কই মাছ ১৪০ থেকে ১৬০, সিলভার কার্প ১০০, মিরর কাপ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর প্রতি কেজি কাঁচকি ও মলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৪৫০ থেকে ৫০০, হরিণা চিংড়ি ৬০০, বাগদা ও গলদা ৬০০ থেকে ৭৫০, পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ ও আদার বাজার অপরিবর্তিত থাকলেও দাম কমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের। এসব বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা, দেশি কিং পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। আমদানি করা মিসরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও চায়না পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি দরে।

দাম বেড়েছে দেশি রসুনের। বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়ে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। আগের দামে প্রতি কেজি চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। আর কেরালার আদায় কেজিতে ২০ টাকা দাম বাড়লেও আগের দামেই রয়েছে চায়না আদা।

এসব বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা কেরালা আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা ২৫০ টাকার মধ্যে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..