প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহান ঐতিহ্য সুরক্ষা হোক

 

খ্রিস্টধর্মের প্রচারক যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। এ দিনে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি, এ মহামানব

যেমন তাঁর জীবন দিয়ে অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার ব্রত নিয়েছিলেন, সব শোক-দুঃখের ভার যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন; এ ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে তেমনই মুক্তি ও ত্যাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক। জীবনভর সাধনার মাধ্যমে যে আলোর পথ যিশু দেখিয়েছেন, তাতে উদ্ভাসিত হোক

মানুষের জীবন। আমরা বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন শুধু সুদৃঢ়ই হবে না, বিশ্বশান্তি পরিস্থিতি সুসংহত হবে।

বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসব শুধু আনন্দ বয়ে আনে না, অর্থনীতিতেও আনে গতি। দেশে তো বটেই, খ্রিস্টান ধর্মপ্রধান দেশগুলো থেকে এ উৎসব ঘিরে তৈরি পোশাকের জন্য যে ক্রয়াদেশ পাওয়া যায়, তার প্রভাব পড়ে আমাদের অর্থনীতিতে। ধর্মীয় উৎসব ঘিরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এ-ও ঠিক, শুধু ধর্মীয় বিবেচনায় কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের ওপর আক্রমণ হলে এ ধরনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনে আছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বিদেশি নাগরিকরা জঙ্গি হামলার শিকার হওয়ায় আমাদের রফতানিতে তার প্রভাব পড়বে বলে শঙ্কা জন্মেছিল। কিন্তু তা হয়নি। আশার কথা, এটা যে নিছক সন্ত্রাসী হামলা এবং দেশের মূলধারার মানুষের চেতনাবিরোধী তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রফতানি পণ্যের বিদেশি ক্রেতারা সে বিশ্বাস রেখেছেন আমাদের ওপর। বাংলাদেশের প্রতি তাদের এ আস্থায় আমরা গর্বিত।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নত, বিশেষত খ্রিস্টানপ্রধান দেশ যেভাবে ভূমিকা রেখেছে, আমরা তাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।

বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের দেশেরও সুমহান ঐতিহ্য বটে। নিকট অতীতে একে ক্ষুন্ন করার চেষ্টা যেভাবে করা হয়েছে, তাকে আমরা স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত হিসেবেই দেখতে চাই। মনে রাখা দরকার, বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্ব একটি গ্রামের মতো। কোনো দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হলে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ না থাকলে তাতে যে সংকট সৃষ্টি হয়, এর প্রভাব পড়ে অন্যান্য দেশেও। এজন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে যারা জড়িত, তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্রকে সব সময় সজাগ থাকা উচিত। এক্ষেত্রে অন্যায় প্রতিরোধে মহাপুরুষ যিশু তাঁর যেসব উপদেশ রেখে গেছেন, সেখান থেকে কি আমরা শিক্ষা নিতে পারি না?

বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা আমাদের দেশে বাস করছেন সাংবিধানিকভাবে সমান অধিকার নিয়ে। এ অবস্থায় বিশ্বের কিছু দেশের খ্রিস্টান ও বৌদ্ধপ্রধান এলাকায় অন্য ধর্মের নাগরিক অধিকার যেভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে, তা আমাদের আশাহত করে। ওইসব দেশেও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে সব মানুষ সমান মর্যাদা লাভের অধিকারী বলে আমরা মনে করি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যিশুখ্রিস্ট তাঁর জীবনে যে উদাহরণ রেখে গেছেন, তারা শিক্ষা গ্রহণ করুন সেখান থেকে। বাংলাদেশের যেসব নাগরিক কাজের খোঁজে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন, তাদের মানবিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তাও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে আমরা চাইব। বাংলাদেশের খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে ব্যাপারে সরকারের সব রকম সহযোগিতা প্রত্যাশিত।