Print Date & Time : 20 October 2020 Tuesday 5:09 pm

সারা দেশেই নিরাপদ পানি প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রকাশ: November 8, 2019 সময়- 02:18 am

বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এদিক থেকে আমরা ভালো অবস্থানে। স্বাদু পানির ভালো মজুদ রয়েছে আমাদের। তা সত্ত্বেও পানি নিয়ে অব্যবস্থাপনা ও তাতে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এখন ওয়াসার পানিতেও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটা মানবদেহের জন্য হুমকিস্বরূপ। বছর খানেক আগে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করা পানির মান পরীক্ষায় পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়। নিরাপদ পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পানির মান পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

প্রশ্ন জাগে, ঢাকা ওয়াসার পানির মান পরীক্ষা করতে কমিটি গঠন করতে হবে কেন। সংস্থাটির তো নিজস্ব বিশেষজ্ঞ রয়েছে। পানির মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাদেরও জবাবদিহি করা উচিত। এটিও দুঃখজনক, দুই সিটি করপোরেশনের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়নি। এটা তাদের দায়িত্ব বৈকি। তারা কিন্তু সেটা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশে খাবার পানির ৪১ শতাংশেই ক্ষতিকর ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির ৮০ শতাংশেই রয়েছে ক্ষতিকর জীবাণু, ১৩ শতাংশে আছে আর্সেনিক। এটা উদ্বেগজনক বটে। কারণ ওয়াসার পানি পাইপলাইনের মাধ্যমেই সরবরাহ করা হয়। অবশ্য সরবরাহের শুরুতে এটি ভালোমানের থাকে বলেই ধারণা। পাইপলাইনে ও বাসাবাড়িতে এসে তা দূষিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে। ঢাকাবাসী, বিশেষত সীমিত আয়ের মানুষ ওয়াসার পানির ওপরই নির্ভরশীল। নিরাপদ পানি পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকারও বটে। ওয়াসার ব্যর্থতায় মানহীন পানি বাজারজাত করছে কিছু কোম্পানি।

শহরাঞ্চলে নিরাপদ পানিপ্রাপ্তি ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণে শহর নিয়ে আলোচনাও বেশি। গ্রামাঞ্চলেও কিন্তু পানি পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বিশেষত খাবার পানিতে আর্সেনিক নিয়ে আলোচনা নেই দীর্ঘদিন। গ্রামাঞ্চলে পানির মান নিয়ে তাই ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া চলে না। দেশের সব মানুষেরই নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এজন্য শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কী কারণে পানি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, তা খুঁজে বের করে নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পানি নিরাপদ করা সম্ভব হলে সংসার পরিচালনাকারী নারীর ভোগান্তিও কমবে।

দেশে সুপেয় পানির ব্যবসা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অবশ্য বড় কোম্পানিগুলোর বাজারজাত করা পানি নিয়ে অভিযোগ কম এখন। তবে জারে বিক্রি করা পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর উপস্থিতির কথা জানা। এ নিয়ে অনেক জেল-জরিমানা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উৎস থেকে পানি নিয়ে এ ব্যবসাটা অনেকেই করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এর রাস টেনে ধরে পানির ব্যবসাকে মানসম্পন্ন করা জরুরি। খাবার পানির ক্ষেত্রে মান শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। এ ব্যবসার অনুমতি যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হবে। নিয়মিত নজরদারিও করতে হবে।

আবদুর রশিদ ভুঁইয়া

আদর্শপাড়া, দক্ষিণখান

ঢাকা