প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সারা দেশে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলগাথা জনগণের সামনে তুলে ধরতে আজ শুরু হচ্ছে দেশের সব উপজেলা ও জেলা শহরে তিন দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’। প্রান্তিক পর্যায়ে পুঁজিবাজারকে ছড়িয়ে দিতে এ মেলার ২৮টি জেলায় অংশ নিচ্ছেন পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা।

মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) পরিচালক (প্রশাসক) ড. দেওয়ান মো. হুমায়ুন কবির জানান, ‘সোমবার (আজ) বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধনের কথা রয়েছে।’

হুমায়ুন কবির আরও জানান, সব সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে মেলায় আসা লোকদের সামনে তাদের নিজ নিজ সংস্থার সফলগাথা তুলে ধরা হবে। এই মেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে: ‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ অর্জনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলগাথা জনগণের সামনে তুলে ধরাই এ মেলার লক্ষ্য। ১০টি বিশেষ উদ্যোগ হচ্ছে: একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, সকলের জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ।

হুমায়ুন কবির বলেন, তিন দিনব্যাপী মেলায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোও তাদের সুবিধাজনক সময়ে এ ধরনের মেলার আয়োজন করবে বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য।

এ লক্ষ্যে গতকাল রোববার পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২৮টি জেলায় অনুষ্ঠেয় এই মেলায় বিএসইসির পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান।

তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বগুড়া, ফরিদপুর, বরিশাল, পাবনা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রংপুর, রাজশাহী, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ, খুলনা, ফেনী, যশোর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুঁজিবাজারের স্টল থাকবে। সেখানে পুঁজিবাজার বিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনী প্রদর্শন করা হবে।

ইতোমধ্যে মেলা সম্পর্কিত লিফলেট, ব্যানার ফেসটুনসহ যা কিছু প্রয়োজনীয়, সব জিনিসপত্র জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে কী অর্জন করতে পেরেছি, সেটা সাধারণের কাছে পৌঁছানো মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়া আমাদের পুঁজিবাজার মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক, যা এবার সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে।

আহমেদ রশিদ লালী বলেন, দুই কারণে এ মেলায় অংশ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পুঁজিবাজারকে তুলে ধরা। একইসঙ্গে এ বাজারের উন্নয়নে যে সংস্কার হয়েছে, তা মানুষকে জানানো।

এ বিষয়ে বিএসইসির উপ-পরিচালক ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়ের উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের উন্নয়ন মেলায় বিএসইসি প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চাই পুঁজিবাজার কী, কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে; এখন এই বাজারের অবস্থা কী?