প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ আইনের কাছাকাছি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন এখনও না হওয়ার মধ্যে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে যেভাবে নিয়োগ দিচ্ছেন, সে পদ্ধতিটিও আইনের কাছাকাছি। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে আসায় তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হলেও সেই আইনটি এখনও হয়নি। এ অবস্থায় জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ২০১২ সালে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির সুপারিশের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন তিনি। একই পদ্ধতি বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদও চালু রেখেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, হয়তোবা সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়, যেহেতু সবার কনসেনসাসের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এটা করেছেন, এটা আইনের কাছাকাছি। কারণ এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।

আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে পাঁচ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাদের পর যে কমিশন গঠিত হবে, ২০২৩ সালের শেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার থাকবে তাদের ওপর।

নতুন ইসি গঠন নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি একটা সার্চ কমিটি করবেন। তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

আইন না করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি।

বিএনপির সমালোচনার জবাবে আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করেছে, করে যাবে, তাদের (বিএনপি) সেটা নিয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাষ্ট্রপতি নাম চান সব দলের কাছে। তাদের দেয়া প্রস্তাব থেকেও কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি যে কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে, সেখানে একজন আছেন। সেক্ষেত্রে আমি বলছি, তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হবেন কি না জানি না, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

নির্বাচন কমিশন আইন ও সার্চ কমিটি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে গতকাল আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনটি করা প্রয়োজন। তবে বর্তমান মহামারির পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সম্ভবপর নয়। কভিড সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করলে পুরো সংসদে আমরা ৩৫০ সদস্য বসতে পারব, বসে এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে পারব। সেই জিনিসটা কিন্তু আমাদের হচ্ছে না। সে কারণে আমি বলেছি, ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এবার সার্চ কমিটি করবে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের উম্মোচন করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান কৌঁসুলি বলেন, তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই সারা বিশ্বে কভিড-১৯ মহামারি দেখা দেয়। এ সময় কমিশন নিয়ে ব্যস্ত থেকে কভিড মোকাবিলা না করলে সেটা বোধহয় বিবেচকের কাজ হতো না।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে কাজ করা শুরু করেছি। এটার অবকাঠামো কী হবে, এটা কোন আইনের আওতায় থাকবে, বা নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন হবে কি না, পরিধি কেমন হবে এগুলোর খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে।

তদন্তের আওতার বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যেটা প্রয়োজন, যারা এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ছিলেন, তারা অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। শুধু হত্যার অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত নয়, তারা এই ঘটনার পর বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন বা বিকৃত করার অপরাধ করেছেন। তারা এই অপরাধটার যাতে বিচার না হয়, সেই আইন করার অপরাধ তারা করেছে। এজন্য অবশ্যই নতুন প্রজন্ম ও এখনকার প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেটা প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া এই কমিশন কিন্তু কোনো প্রতিহিংসামূলক নয়। এই কমিশন হচ্ছে, বিকৃত ইতিহাসকে ফেলে দিয়ে সত্য যে ইতিহাস সেটাকে সঠিক পথে চালিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজš§কে সেটা সম্পর্কে জ্ঞাত করা। এটার পরিধিগত ব্যাপার আছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের নিয়ে এটা করা উচিত। সেসব কারণে এটার অবকাঠামোগত আলাপ-আলোচনার কাজ চলছে।’

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে ‘অপব্যবহার’ না হয়, সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

এ আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক হয়রানির বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে যাতে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা না হয়, সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হয়রানি করতে চাইলে তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ সেলের সুপারিশ নেয়ার পদক্ষেপটি জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার রায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান তিনি।

ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।