আজকের পত্রিকা দিনের খবর শেষ পাতা সর্বশেষ সংবাদ

সার্বক্ষণিক চালু শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি

করোনা-আতঙ্কে নাজুক স্বাস্থ্যসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: গত মাসের মাঝামাঝিতে দেশব্যাপী করোনার বিস্তার শুরু হয়। এ বিস্তার ঠেকাতে সরকার গত ২৪ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এতে বন্ধ হয়ে যায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ রোগী ও জটিল রোগাক্রান্তরা।

এমনকি করোনা-আক্রান্ত রোগী মনে করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক। এর মধ্যে ব্যতিক্রম চট্টগ্রামের শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রাইভেট লিমিটেডের হালিশহর শাখা। এক মুহূর্তের জন্যও তারা বন্ধ রাখেনি সেবা। আর সার্বক্ষণিক সেবা দিতে প্রস্তুত আছে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক দল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম মহানগর। এ শহরে ৭০ লাখ নাগরিকের বসবাস। এসব নাগরিকের জন্য সরকারি হাসপাতাল আছে হাতেগোনা কয়েকটি। আর বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ভালো মানের ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে খুব কম। এর মধ্যে বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল করোনা-আক্রান্ত রোগী মনে করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছে।

এতে স্বাভাবিক নিয়মে জ্বর, সর্দি-কাশি, গর্ভবতী, ডায়াবেটিস, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ও চেম্বারে ব্যক্তিগতভাবে সেবাপ্রদানকারী চিকিৎসকরা সরাসরি সেবা প্রদান এড়িয়ে চলছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের লায়ন দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল, শেভরন আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের ঘোষণা দেয়।

তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুটিন চিকিৎসা ও অপারেশন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এও শোনা যাচ্ছে, হাসপাতাল মালিকদের পরিচিত ও ভিআইপি ছাড়া কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। বেশিরভাগ রোগীকে হাসপাতাল গেট থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একদিনও বন্ধ হয়নি চট্টগ্রামের শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির হালিশহর শাখা।

প্রতিদিনের মতো তারা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাধারণ রোগী ও বিভিন্ন ধরনের ল্যাব পরীক্ষা-সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে গাইনি, শিশু স্বাস্থ্য, মেডিসিন, আলট্রা, টেলি মেডিসিন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আর বয়স্কদের রক্তের নমুনা সংগ্রহে রোগীর বাসায় গিয়ে কর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করছেন, যা এক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত।


সেবা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, করোনার ভয়ে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তারা সরাসরি রোগী দেখা এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির পরিচালক মো, রাশেদুল হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের হালিশহর ব্রাঞ্চ করোনাভাইরাসজনিত কারণে প্রথম মহামারির দিন থেকেই চিকিৎসাসেবা ও ল্যাব টেস্টে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের ডাক্তার ও স্টাফরা রোগীদের সেবা দেওয়া বন্ধ করেননি।

হালিশহরে যখন সব ল্যাবরেটরি বন্ধ ছিল, তখন আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা রোগীদের সার্ভিস দিয়েছি। গত ২৪ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সবাই বন্ধ রেখেছে। এই কঠিন সময়ে আমরা গড়ে ২৫ থেকে ৩০ রোগীকে সেবা দিচ্ছি। তাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

আমাদের চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতেও আমরা এটি অব্যাহত রাখব। তিনি আরও বলেন, আগে স্বাভাবিক সময়ে রোগী ছিল ২৫০-৩০০ জন। এখন আসেন ২৮-৩০ জনের মতো। লাভের কথা চিন্তা না করেই এ কমসংখ্যক রোগীকে সেবা দিচ্ছি। আর বয়স্ক রোগীদের জন্য হোম ব্লাড কালেক্ট করছি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামভিত্তিক বেসরকারি এই ক্লিনিকটি ১৯৮৪ সাল থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে কাজ করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হালিশহর, বন্দরটিলা, হাটহাজারী, রাঙামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, পটিয়া, বোয়ালখালী, নাজিরহাট, আনোয়ারা ও চকরিয়াসহ ১০টি শাখা আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..