আজকের পত্রিকা মত-বিশ্লেষণ

সার্স-কোভ-২-এর জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

শাহরিয়ার সুলতান: সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের (সার্স-কোভ-২) প্রকোপ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়েই চলেছে এবং লাখো মানুষ এখন মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। নবাগত এ প্যাথোজেনিক ভাইরাসটি নিয়ত মিউটেট করছে বা রূপ পাল্টাচ্ছে। বাংলাদেশে কোন ধরনের করোনাভাইরাস বিরাজ করছে, কিংবা এর মারণক্ষমতা কতটা তীব্র, এখনও জিনোম সিকোয়েন্স না করায় তা জানা নেই।

সব জায়গায় মানুষ একই হারে আক্রান্ত হচ্ছে না। ভাইরাস ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে অবস্থান করছে।  এর অন্যতম কারণ ভাইরাসের জিনের পরিবর্তন। জিনোম সিকোয়েন্স করা হলে জানা যেত ভাইরাসটি কত দ্রুত এর রূপ পাল্টাচ্ছে এবং ভাইরাসটি কোন স্থান থেকে আমাদের দেশে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কোনো দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হলে সেটি আমাদের দেশে কার্যকর করা কষ্টসাধ্য হতে পারে মিউটেশনের ফলে ভিন্ন স্ট্রেইনের ভাইরাস বিরাজ করায়।  তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। জিনোম সিকোয়েন্স করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস খানেকের বেশি সময় লাগতে পারে।  এজন্য আগেভাগেই জিনোম সিকোয়েন্স করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। তা না হলে যথাসময়ে চিকিৎসার অভাবে প্রাণহানি বাড়তে পারে।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে কোনো জীবের জিনগত যে তথ্যগুলো ডিএনএ বা আরএনএ’র মধ্যে থাকে, সেগুলো সম্বন্ধে অবগত হওয়া যায়।  গঠন অনুযায়ী ভাইরাসকে পূর্ণাঙ্গ জীব হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, বরং এটির অবস্থান জীব ও জড়ের মাঝামাঝি। তাই টিকে থাকার জন্য এটির প্রয়োজন কোনো হোস্টের। ডিএনএ কিংবা আরএনএ’তে ভাইরাস নিজের জিনগত তথ্য বহন করে। সার্স-কোভ-২ মূলত আরএনএ ভাইরাস। আরএনএ ভাইরাসের স্থায়িত্ব ডিএনএ ভাইরাসের চেয়ে কম হয়, আর তাই এর মিউটেশন বা রূপান্তরও ঘটে বেশি। ক্রমাগতভাবে মিউটেশনের ফলে ভাইরাসটি আমাদের দেশে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে, না দুর্বল হয়ে পড়ছে, সেটিও বিবেচ্য বিষয়।  ভাইরাস যত সময় ধরে ছড়ায় মিউটেশনও তত বাড়ে।

বাংলাদেশে ইতালি, চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি করোনা-আক্রান্ত রোগী এসেছে। তাই বাংলাদেশে বিরাজমান ভাইরাসের সঙ্গে ওই দেশগুলোর ভাইরাসের সামঞ্জস্য থাকতে পারে। কিন্তু জিনোম সিকোয়েন্সিং ছাড়া কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে, তা জানা সম্ভব নয়।  ওই দেশগুলোরও সব স্থানে জেনেটিক পরিবর্তনের জন্য ভাইরাসের সংক্রমণ একই হারে হয়নি।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি, যা আমাদের জনসংখ্যার চেয়ে অনেক কম এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের সামর্থ্যও আমাদের চেয়ে কম। অথচ তারা এরই মধ্যে একটি জিনোম সিকোয়েন্স করতে পেরেছে। ভারতে ৫০টিরও বেশি জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার দরুন বাংলাদেশে এ ব্যাপারে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দেশের এ সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..