প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাড়ে তিন কোটি টাকা ঋণের আবেদন স্টাইল ক্রাফটের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বস্ত্র খাতের কোম্পানি স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড আবারও মেয়াদি ঋণের জন্য পূবালী ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। কোম্পানিটি ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকার জন্য আবেদন করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির গাজীপুরে বিদ্যমান কারখানা রিট্রোফিটিংয়ের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ নেবে। প্রকল্পটি অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স গ্রুপস ধারাবাহিকভাবে প্রচারের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মতির বিষয় বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়ার অধীনে।

কোম্পানিটির ব্যাংকের সুদের হার ভবিষ্যতে রফতানি আয় অথবা নিজের উৎস থেকে সমান মাসিক কিস্তি ভিত্তি করে সমন্বয় করা হবে। এর আগে এ কাজের জন্য সাত কোটি ৫০ টাকা ঋণ নিয়েছিল।

কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানি। গতকাল কোম্পানিটির ৩৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ২৫টি শেয়ার মোট দুইবার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক ৫৩ শতাংশ বা ২১ টাকা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ৩৫৫ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ৩৭৯ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ এক হাজার ৩৫৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৮৬ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর এক হাজার ৪২ টাকা থেকে এক হাজার ৮৫৮ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৫ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৫ টাকা ৪২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছিল ৪৬২ টাকা ৯০ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল পাঁচ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। ওই সময় ইপিএস ছিল ৬৫ টাকা ৫৭ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৩৭২ টাকা ৬৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ২৬ টাকা ১৬ পয়সা ও ৩১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল তিন কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল এক কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫৫ লাখ টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস ছিল ১৬ টাকা ৫৮ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল সাত টাকা ১৯ পয়সা। ইপিএস বেড়েছে ৯ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি ছিল ৪৭৯ টাকা ৫৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩৮৯ টাকা ৮০ পয়সা।  কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৯১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১০ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ছয় পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৯৩ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল ১৭ টাকা ৫২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি ছিল ৪৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩৯৯ টাকা ২৯ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৬৬ লাখ টাকা।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ১৪ দশমিক ৪৬ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৬ দশমিক ৫৮।

কোম্পানিটির মোট পাঁচ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।