প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক হাজার ৬৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১১ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এটিই ডিএসইর সর্বোচ্চ লেনদেন। একই সঙ্গে মূল্যসূচক গত সাড়ে ২৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। আর গত দুই কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ১১৭ পয়েন্ট।

এর আগে গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের দিনের তুলনায় গতকাল লেনদেন বেড়েছে ৪৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাই গত দু’দিনে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের বড় উল্লম্ফন ঘটেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬২ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৭৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় গত সাড়ে ২৬ মাস বা ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন ডিএসইতে ৩২৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৮টি বা ৬৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। আর ৭৫টি বা ২৩ দশমিক শূন্য এক শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে এবং ৩৩টি বা ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বর্তমানে বিনিয়োগের ‘স্বর্গ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বাজার উন্নয়নের বিষয়ে সরকারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে চাইছেন। পাশাপাশি বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাজারে। পরবর্তীতেও এ ধারা বিদ্যমান থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয় আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বাজারে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে তারল্য। অন্যদিকে মার্জিন লোনের প্রতি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হচ্ছেন।’

দেশের পুঁজিবাজারের এই উল্লম্ফন গত বছরের নভেম্বর থেকেই বজায় রয়েছে। তবে গত দুই মাসে সূচক ও লেনদেন ধীরে ধীরে বেড়েছে। আর চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যদিবস সূচক ও লেনদেন বেড়েছে বড় ব্যবধানে।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। এদিন কোম্পানির ৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এ্যাপোলো ইস্পাত। লেনদেনে এরপর রয়েছে ইফাদ অটোস, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ডেসকো, কেয়া কসমেটিকস ও ডরিন পাওয়ার জেনারেশন।

এদিন অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ১২৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮২৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ১০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬৯টি ইস্যুর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৭টির, কমেছে ৬৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির।