প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাড়ে ১৭ হাজারকে প্রশিক্ষণে সহায়তা দেবে আইএলও

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্কিল-২১ নামে একটি প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে আগামী মাস থেকে। এ খাতে সহায়তা দেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। আর পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মূলত টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভেট) কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে এ সহায়তা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইইউ, আইএলও এবং বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। ইইউ’র অর্থায়নে ‘স্কিলস-২১ এমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে আইএলও। এ কাজে ব্যয় হবে দুই কোটি ইউরো। এর মধ্যে ইইউ এক কোটি ৯৫ লাখ ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুযারি থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৭ হাজার ৫০০ জন সরাসরি সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন বলে চুক্তিসই অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। এতে বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব সোহরাব হোসাইন, ইইউ-এর পক্ষে হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরে মায়ুদুন এবং আইএলও’র পক্ষে মহাপরিচালক গাই রাইডার চুক্তিতে সই করেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আইএলওর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের সহকারী পরিচালক তুমোকো নিশিমোতো, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রিনিবাস রেডি, ডেপুটি ডিরেক্টর গগন রাজভান্ডারী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। ২০০৯ সালে মোট শিক্ষার একভাগ ছিল কারিগরি শিক্ষা, যা এখন তিনগুণ বেড়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন সাধন হবে। দক্ষ শ্রমিক কেবল আমাদের আভ্যন্তরীণ শিল্পে জরুরি নয়, বিদেশে ভালো মজুরির চাকরির জন্যও আমাদের শ্রমশক্তিকে দক্ষ করা দরকার।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, প্রতি বছর শ্রমবাজারে ২০ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আমাদের দেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও নিরাপত্তার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক ও টেকসই মান নিশ্চিত করা এবং মুখ্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিদের দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

আইএলও ডিজি গাই রাইডার বলেন, একটি আধুনিক ও সার্বজনীন দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা বাংলাদেশে উন্নত ভবিষ্যতের শক্ত ভিত্তি গড়ে দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ইইউ’র অর্থায়নে টিভেট সংস্কার প্রকল্প ২০১৫ সালে শেষ হয়। এবার দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় স্কিল ডেভলপমেন্ট কর্মসূচিকে শক্তিশালী করতে ও আগের সংস্কার কার্যক্রমের গতিশীলতা অব্যহত রাখতে এ ‘স্কিল ২১’ প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে।

পোশাক খাতের পরিবেশ উন্নয়নে বিদেশি সহায়তা অব্যাহত রাখতে চুক্তি সই: এদিকে গতকাল সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইএলওর অন্য একটি চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অব্যহত রাখার লক্ষে এ চুক্তি সই হয়। এতে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার ও আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার সই করেন। এ সময় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিয়নি মার্গারেটা, ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রধান জেন এডমন্ডসন, কানাডার হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার ডুজিড উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুসারে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) পোশাক খাতের শ্রম পরিবেশ উন্নয়নে তাদের সহায়তা অব্যহত রাখবে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে ওই দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। ওই প্রকল্পের প্রথম ধাপ সমাপ্তির পর দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০ পোশাক কারখানাকে পরিদর্শন করা ও অন্তত ১০০ কারখানাকে কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনার কাজ চলছে।