প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সা ত কা হ ন: আবিদুল ইসলাম রিমন  

 

মো. ইমরান হোসেন: আবু হেনা রনি, আনোয়ারুল আলম সজল, ইশতিয়াক নাসির, জামিল নামগুলো তার কাছে বিস্ময়কর। কীভাবে তারা দুই বাংলার মানুষকে হাসাতে পারেন, দুই বাংলাকে এক সুতোয় গাঁথতে পারেন এসব ছিল তার চিন্তার বিষয়। আবু হেনা রনিকে অনুসরণ করেই পা বাড়িয়েছেন কমেডি জগতে। কমেডির মাধ্যমে মানুষকে বিনোদিত করার স্বপ্ন দেখেন আবিদুল ইসলাম রিমন।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়ার নয়াগ্রামের বাসিন্দা রিমন। মা গৃহিণী, বাবা ছিলেন দুবাই প্রবাসী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছেন নিজ গ্রাম থেকে। বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।

ভালো মাপের লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন প্রতিনিয়ত। এ জন্য দেশের বিভিন্ন দৈনিকের ফান ম্যাগাজিনে লিখে যাচ্ছেন। জীবনকে শুধু লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। কমেডির প্রতি রয়েছে তার আলাদা নেশা। মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে কমেডিতে মেতে ওঠেন।

আবু হেনা রনির মতো হওয়া ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। হাজার হাজার মানুষের সামনে পারফর্ম করছেন, হাজারো মানুষ তাকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে এমন স্বপ্ন দেখেন।

প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মানুষের ভালোবাসা থাকলে জয় করা সম্ভব অনেক কিছুই। যাকে নিজের আইডল ভাবেন, সেই আবু হেনা রনি তার রম্য লেখা পড়ে মুগ্ধ। রনির উৎসাহে ঢাকায় চলে আসেন রিমন। রনির পরামর্শে কমেডিয়ানের খাতায় নাম লেখান।

আবু হেনা রনির টিপস নিয়ে কমেডিচর্চা শুরু করেন। সফলতার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বিটিভির ‘হাসতে মোদের মানা’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ডাক পান। একই বছর এনটিভির কমেডি রিয়েলিটি শো ‘হা-শো’ সিজন-৪-এ সুযোগ পান। সিলেটের প্রথম স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান হিসেবে এখানে অংশ নেন তিনি।

কমেডির পাশাপাশি পড়াশোনা, স্টেজ শো ও লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এনটিভি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের জন্য রম্য লেখার পাশাপাশি বুনো পায়রা প্রডাকশন হাউসের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের স্ট্রিট শো’তে উপস্থাপক হিসেবে অভিষেক হবে তার। আগামী বইমেলার জন্য একটি বই প্রকাশের প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

সিলেটের স্ট্যান্ডআপ কমেডিকে মানসম্মত স্থানে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রিমন। প্রতি বছর ‘মীরাক্কেল’ কিংবা ‘হা-শো’তে এ জেলার অনেকে অডিশন দেন। কিন্তু নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন না অনেকে। নিয়মিত চর্চা না করলে কমেডিতে সফল হওয়া অনেক কঠিন। তাই আবু হেনা রনির সহযোগিতায় বাংলাদেশ কমেডি ক্লাবের সহযোগী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন সিলেট কমেডি ক্লাব। ক্লাবের লক্ষ্য, সিলেটের নতুন নতুন কমেডিয়ানকে তুলে আনা। তাদের সুযোগ করে দেওয়া, যেন তারা বাংলাদেশের কমেডিতে অবদান রাখতে পারেন।