সারা বাংলা

সিংড়ায় ইউপি ডিজিটাল সেন্টারে সনদ জালিয়াতি

তাপস কুমার, নাটোর:জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হলেও নাটোরের সিংড়ার শুকাশ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মো. রেজাউল করিম ব্যবসা খুলে বসেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে অর্থের বিনিময়ে জন্ম নিবন্ধন সনদের বয়স কম-বেশি করাসহ মোটা অঙ্কের অর্থ হলেই মিলে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্র ও বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞতা সনদ।

সরেজমিনে শুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র। কম্পিউটারে স্থানীয় বেলোয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাড তৈরি করে প্রকাশ্যে ডুপ্লিকেট সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ বানিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি এ প্রতিবেদকের ক্যামেরা বন্দি হয়ে যাওয়ায় হতভম্ব হয়ে যান মো. রেজাউল করিম। সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের হাতে-পায়ে ধরার চেষ্টাও করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র বানিয়ে বিক্রয় করছেন উদ্যোক্তা রেজাউল করিম। এছাড়াও বিভিন্ন ছোটখাটো কাজেও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় সেবাপ্রার্থীদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শুকাশ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, তিনি কোনো কাজে অতিরিক্ত অর্থ নেন না। তবে একজন স্থানীয় ইউপি সদস্যের অনুরোধে এ প্রথম তিনটি অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদপত্র তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে বলেন, এ কাজটি অন্যায় করেছেন আর এর জন্য ক্ষমাও চান।

শুকাস ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবদুল লতিফ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ইন্টারনেট সংযোগের কারণে ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা সেন্টারটি পুরোনো ভবনে অবস্থিত। কিন্তু তিনি নতুন ভবনে বসেন, তাই বিষয়টি তার জানা নেই। ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদেরও একই ভাষ্য।

এ বিষয়ে বেলোয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তার স্কুলের সিল-প্যাড বানিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বিক্রয়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরিন বানু এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। নাটোরের ডিডিএলজি গোলাম রাব্বি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র বানিয়ে বিক্রয় করা নিঃসন্দেহে একটি অবৈধ কাজ। খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..