সারা বাংলা

সিংড়ায় দুটি বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

প্রতিনিধি, সিংড়া (নাটোর): নাটোরের সিংড়ায় আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আত্রাই নদীর পানি সিংড়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া গত বুধবার রাতে পানির তীব্র স্রোতে পৌর এলাকার শোলাকুড়া মহল্লায় সিংড়া-বলিয়াবাড়ী রাস্তার বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শোলাকুড়া, সোহাগবাড়ী, কতুয়াবাড়ী, মহেশচন্দ্রপুরসহ কয়েকটি এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

গতকাল সকাল ৭টায় নাগর নদীর হিয়াতপুর নামক স্থানে সিংড়া-তাজপুর সড়ক বাঁধও ভেঙে যায়। এতে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে বন্যায় উপজেলার দুই হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অন্তত  এক হাজার ৩০০ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত এক লাখ মানুষ। ফলে নিরুপায় হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দিকে ছুটছে বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গত মানুষ। এরই মধ্যে ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, নতুন করে বন্যার কারণে এই উপজেলায় দুই হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় দুই হেক্টর মাষকলাইসহ অসংখ্য সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ মোল্লা জানান, দ্বিতীয় দফার এই বন্যায় এ উপজেলায় অন্তত এক হাজার ৩০০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। বন্যার পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে মৎস্য বিভাগ তৎপর রয়েছে।

সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, শোলাকুড়া মহল্লাসংলগ্ন বাঁধ ভেঙে তিনটি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আরও বাড়ি হুমকির মুখে। আমরা আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাসরিন বানু জানান, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলো যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮৮০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যাকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ও পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. শাহরিয়াজ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সদা প্রস্তুত রয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..