সারা বাংলা

সিংড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শহরে পানি

প্রতিনিধি, সিংড়া (নাটর): নাটোরের সিংড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সিংড়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা পরিষদ, থানা, সাব-রেজিস্টার, ভূমি অফিস, সিংড়া বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পোস্ট অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যার পানি ঢুকেছে। এছাড়া সিংড়া-বলিয়াবাড়ী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে প্রবল স্রোতে সড়কও ভেঙে গেছে। শোলাকুড়া মহল্লায় মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা ধসে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বালির বস্তা সরবরাহ না থাকায় হিমসিম খাচ্ছেন তারা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতি রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, আত্রাই নদীর পানি ১০৫ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ১৬টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। পৌরসভার ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ছয় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা বন্যায় ২৫০০ হেক্টর রোপা আমন, সাত হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ভেসে গেছে ১৩শ’ পুকুরের মাছ। 

সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘বন্যার কারণে পৌর এলাকার মানুষ পানিবন্দি। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে নিজ অর্থায়নে বালির বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, উপকূলীয় এলাকার মতো চলনবিলের মানুষেরাও বন্যাকবলিত। এ এলাকার মানুষদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপজেলার সব সৌঁতি উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাকবলিত এলাকায় পর্র্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..