সিংহভাগ কোম্পানি দর হারালেও লেনদেনের শীর্ষে ব্যাংক খাত

মো. আসাদুজ্জামান নূর: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার মূল্য সূচকের ব্যাপক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেন হওয়া সিংহভাগ সিকিউরিটিজের দর কমেছে। সেই সঙ্গে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ১৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। প্রচণ্ড ‘বিক্রয় চাপ’ গতকাল পুঁজিবাজারের পতন ঘটায়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৫ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ হ্রাস পেতে দেখা গেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার ক্রেতাদের চেয়ে বিক্রেতারা বেশি সক্রিয় ছিলেন। দিনের শুরুতে পুঁজিবাজার ইতিবাচক থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে বাড়ে বিক্রেতাদের আধিপত্য। এর প্রভাবে ‘বিক্রয় চাপ’ বেড়ে পতন ঘটে বাজারে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস পেলেও লেনদেনের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক খাত। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই ধারাবাহিকভাবে এ খাতের লেনদেন বেশি হয়।

বুধবার ডিএসইতে এক হাজার ১২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে আগের দিনের মতোই সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্যাংক খাতের। ৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ অবদানের দিনে এ খাতে টাকার অঙ্কে লেনদেন হয় ৩৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকার। লেনদেনের সঙ্গে দর হারানোতেও শীর্ষে ছিল খাতটি। লেনদেনে অংশ নিয়ে গতকাল তালিকাভুক্ত ৩২টি কোম্পানিরই দরপতন ঘটে। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

শুধু ব্যাংক নয়, লেনদেনের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে কোনো রদবদল হয়নি। আগের কার্যদিবসের মতো গতকালও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের অবদান ছিল ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ১১৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেনের দিনে এ খাতের ৭টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়, বাড়ে তিনটির ও অপরিবর্তিত ছিল মাত্র একটির। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের অবদান ছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। ১১৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লেনদেনের দিনে শুধু এই খাতের বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে দেখা গেছে। গতকাল এ খাতের ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে, কমে ২২টির ও অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে ১০টির। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার এ খাতের অবদান ছিল ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এরপরের অবস্থানে থাকা আর কোনো খাতের অবদান ১০ শতাংশ ছাড়ায়নি। গতকাল চতুর্থ অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের অবদান ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন হওয়া এ খাতের ২১টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। এর বিপরীতে দর বাড়ে ছয়টির ও অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে তিনটির। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতে ৫৩ কোটি ২ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে অবদান দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ খাতের ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দর পতন ঘটে। এর বিপরীতে শেয়ারদর বাড়ে ৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ছয়টির। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

লেনদেনে পরের অবস্থানে থাকা জীবন বিমা ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, সেবা ও রিয়েল এস্টেট খাত ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবদান রাখে। 

বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ছয় হাজার ৯১৭ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ২৯ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে দুই হাজার ৬৩১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৬ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে এক হাজার ৪৫২ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। 

গতকাল ডিএসইতে ৩৬৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২৫৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..