সম্পাদকীয়

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অযৌক্তিক আন্দোলন কাম্য নয়

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের গুরুত্ব অনেক। সে দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ দুই জায়গায় শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। অথচ প্রায়ই অনৈতিক ও অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করা হচ্ছে, দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। সর্বশেষ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের অবরোধে বড় ক্ষতি হয়েছে; অথচ তারা যে দাবি জানিয়েছেÑতা যৌক্তিক নয় বলে অভিমত অনেকের। অবশ্য কাস্টমসের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি।

‘চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস: সিঅ্যান্ডএফের অবরোধে শতকোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একদিনে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে শতকোটি টাকা। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অবরোধের কারণে এই বিশাল ক্ষতি হলো! মূলত দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এ আন্দোলনের সূচনা। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও রাজস্ব আয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন অনৈতিক আন্দোলন গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রীয় আয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এবং অবৈধ কাজের বৈধতা চেয়ে এমন আন্দোলন উদ্বেগজনক।

আমাদের অর্থনীতিতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, অর্থ পাচারসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাইসের মতো কিছু জায়গা ব্যবহার করে এমন অনৈতিক কাজ হচ্ছে। অসাধু আমদানিকারকদের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অনেকে এতে জড়িত। ফলে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে কাস্টমস ও এনবিআর। অথচ আন্দোলন করে কাস্টম হাউস অচল করছেন এজেন্টরা। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা অবৈধ কাজের বৈধতা দাবি করছেন এমনটাই প্রতীয়মান হয় বৈকি। এছাড়া সিন্ডিকেট করে এ ধরনের অপরাধ করা হচ্ছেÑএমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা সত্য হলে গুরুতর খবর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করতে হবে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, অর্থ পাচার বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরে চিঠি দেন কাস্টমস কমিশনার। এক বছরে একাধিকবার অপরাধ করলে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে চিঠিতে। পদক্ষেপটি যৌক্তিক হলেও তা অনেকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কোনো কারণে মতভেদ তৈরি হলে দেশের ক্ষতি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..