প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ: লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ১৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শওকত আলী: কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছেনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টিই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ খাতে ঋণ বিতরণে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিএএমপি ভেনচার ক্যাপিটাল, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, বিআইএফএফসি ও আইডিসিওএল। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আইডিসিওএল এবং বিআইএফএফসি কোনো ধরনের ঋণ বিতরণ করেনি। ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিতরণ করেছে মাত্র দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর সিএএমপি ভেনচার ক্যাপিটাল চলতি বছরের ৯ মাসে ঋণ বিতরণ করেছে তিন কোটি ১০ লাখ টাকা।

এছাড়া ঋণ বিতরণে জিএসপি ফাইন্যান্স, বে-লিজিং, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট

লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বিএফআইসি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিছিয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তনু সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা এ সময়টাতে হয়তো যথাযথ গ্রাহক কম পেয়েছি। সে কারণে অন্যদিকে ঋণ বিতরণ হলেও এখানে কিছুটা কম বিতরণ হয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন শাখার সংখ্যা অনেক কম। বনানী ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা খুলেছি। এজন্য ছোট ঋণ বিতরণ আমাদের জন্য একটু কষ্টকর।’

জানা গেছে, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এ ৯ মাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো ঋণ বিতরণ করেছে। তবে এসএমইতে ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ৩৮ কোটি টাকা। যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে রয়েছে বলে তাদের নিয়ে একটি সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৬৩২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯ মাসে বিতরণ করেছে এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ৯০ শতাংশ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে লংকাবাংলা, মাইডাস ও ইসলামিক ফাইন্যান্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যথাক্রমে ২৫৮, ২০৬ ও ১৩৯ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। যেখানে ইসলামিক ফাইন্যান্স লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বিতরণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪৫ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত তদারকি করে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সুন্দরভাবে ঋণ বিতরণ করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আশা করছি, তিন মাসের মধ্যে তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হবে। কারণ প্রতিবছরই দেখা যায়, শেষ তিন মাসেই বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের টার্গেট সম্পন্ন করে। এরপরও যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হবে তাদের জন্য অবশ্যই প্রতিবিধান আছে। বছর শেষে ক্যামেলস রেটিং থেকে তাদের এ প্রভাব পড়বে। আর যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একেবারেই খারাপ অবস্থায়, তাদের সঙ্গে আলাদা করে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।