প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী আইসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ’ (আইসিবি)। গত ৫ ডিসেম্বর এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনসাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আইসিবি-সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার লক্ষ্যে এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এছাড়া আরও তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কথা হচ্ছে সিএসই কর্তৃপক্ষের। এগুলো হচ্ছে : লঙ্কা বাংলা, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে পেতে যোগাযোগ করছে সিএসই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি মনে করি দেশি প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের পুঁজিবাজার, অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতি ও মানি মার্কেটের সার্বিক অবস্থা ভালো বুঝবে। এক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে। তাছাড়া বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলে তারা যে কোনো সময় মুনাফা করে অর্থ নিয়ে চলে যেতে পারে। সেই বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চলছে, আশা করছি এসব প্রতিষ্ঠানকে আমরা কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে পাব।’

২০১৩ সালে কার্যকর ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইনে তিন বছরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা আছে। এ সময়সীমা শেষ হচ্ছে চলতি ডিসেম্বরেই। এ লক্ষ্যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর একটি চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে পরের এক বছরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেয়। তবে এ বিষয়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিল উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগের কারণে এখন সেই শঙ্কা কিছুটা দূর হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়ম অনুযায়ী, কৌশলগত বা  স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারী হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত দেশি বা বিদেশি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ, কোনো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক কোম্পানি, বিনিয়োগ ব্যাংক বা কোনো স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান। স্টক এক্সচেঞ্জের ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে শেয়ার বিক্রির চুক্তি না হলে কমিশন অবশ্য সময় বাড়াতে পারবে।

জানা গেছে, কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে সিএসইকে অভিহিত মূল্যে ১৫৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকারও বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে। আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জটিকে অভিহিত মূল্যে প্রায় ৪৫১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ডিএসই চাইছে প্রিমিয়ামে বিক্রি করতে। অন্যদিকে এর বাইরে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ করে শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর মধ্যে বিক্রি করবে।

এদিকে সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে আসতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএসইর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বাইরের অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি; তবে তারা কেউ সাড়া দেয়নি। যে কারণে আমাদের দেশি বিনিয়োগেই খুশি থাকতে হচ্ছে।’