Print Date & Time : 3 December 2020 Thursday 3:32 am

সিগারেট কোম্পানির কারসাজি বন্ধ হোক

প্রকাশ: September 18, 2020 সময়- 12:08 am

দেশে সিগারেটের দাম দিয়ে অরাজকতা বিরাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। বহুজাতিক দুটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বাজার। কোনোভাবেই পেরে উঠছে না দেশীয় কোম্পানিগুলো।  

গতকালও শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নিম্নস্যাযাবের সিগারেট বিক্রিতে বিএটি-জেটিআইর কারসাজি’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। এতে বলা হয়, বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড (বিএটি) ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) ৩ হাজার ৯০০ টাকারঅনেক দিনের অভিযোগ, দুটি বহুজাতিক কোম্পানি মূলত বাজার বৈষম্য সৃষ্টি ও ছোট কোম্পানিগুলোকে ধ্বংস করতে এমন কারসাজি করছে। কুমিল্লা ভ্যাটের অধিক্ষেত্রাধীন সিগারেট উৎপাদনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের (একেটিসিএল) অভিযোগ, উৎপাদন খরচ একই হওয়া সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো উৎপাদিত নি¤œস্তরের সিগারেট দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রতি হাজার শলাকায় ৪০০ টাকা কমে বিক্রি করছে। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে টিকে থাকতে ৪০০ টাকা লোকসান দিয়ে একই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও দেশীয় কোম্পানিকে রক্ষায় মূল্য কারসাজির বিষয়ে খতিয়ে দেখতে এনবিআরকে অনুরোধ জানানো হয়। সিগারেট বিক্রি করছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

বিএটি বলছে, সিগারেট খাতের শিল্পের সিংহভাগ রাজস্ব প্রতিষ্ঠনটি এককভাবে দিয়ে থাকে। জেটিআইও বলছে, দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা যথাযথ মেনেই ব্যবসা করছে তারা।

তামাক কোম্পানিগুলো উচ্চস্তরের সিগারেট নিন্মস্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রায়ই রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এর প্রতিকারে এনবিআরের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। দাম বেশি হলে বেশি কর আদায় হবে। তাই আমাদের পরামর্শ হলো, কর বাড়াতে হলে দামও বাড়াতে হবে।

সিগারেটের ওপর অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর আরোপ করা হয় বেশি। তারপরও উন্নত দেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশে সিগারেটের দাম কম। সিগারেটে বাস্তবে চলছে ‘কর বেশি, দাম সস্তা’এই প্যারাডক্স বা আপাত স্ববিরোধ। কারণও আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন পর্যন্ত সিগারেট তথা তামাকপণ্যে কার্যকর কোনো করকাঠামো তৈরি করতে পারেনি।

করকাঠামোর জটিলতার সুযোগ নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। বৈষম্য কমিয়ে অনেকে বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর বর্তমানের চারটি থেকে কমিয়ে দুটিতে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত বিদ্যমান তামাক করকাঠামো অত্যন্ত জটিল। আমরা মনে করি. অংশীজনদের সঙ্গে মহামত নিয়ে করকাঠামো ঢেলে সাজানো আবশ্যক।

উৎপাদন খরচ একই হওয়া সত্ত্বেও কেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো উৎপাদিত নিন্মস্তরের সিগারেট দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম দামে বিক্রি করছে, সেটির ব্যাখ্যা চাইতে হবে তাদের কাছে। বেশি রাজস্ব দেওয়ার জন্য আলাদা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। বেশি বিক্রি হলে তো বেশি রাজস্ব দিতেই হবে। গৎবাঁধাভাবে আইন ও নীতিমালা যথাযথ মেনেই ব্যবসা করছে দাবি করছে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো। নিশ্চয়ই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কমে বিক্রি করা এর দৃষ্টান্ত নয়। বাজারে আধিপত্য বিস্তারে কোনো নিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেই প্রত্যাশা।