প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিঙ্গারের ৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড গতকাল সর্বশেষ হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে সাত টাকা ১২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৫ টাকা ৩৯ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে চার টাকা ৮১ পয়সা ও ১৮ টাকা ৪৮ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ১১ মে সকাল ১০টায়,  স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টার লিমিটেড, বাড়ি নং ১৯, সড়ক নং  ৭, গুলশান-১, ঢাকায়, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ মার্চ।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল এ শেয়ারদর পাঁচ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১১ টাকা ১০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২০৩ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২০৪ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে ১০ লাখ আট হাজার ৩১২টি শেয়ার তিন হাজার ৪৯০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২০৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২১৫ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৩৭ টাকা থেকে ২২৮ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। কোম্পানির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৫ কোটি চার লাখ টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল তিন টাকা ২৮ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে দুই পয়সা।

অন্যদিকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) ২২ টাকা ৭৫ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ টাকা ৪৮ পয়সা ছিল। কর-পরবর্তী আয় হয়েছিল ২৫ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৬৫ পয়সা এবং কর-পরবর্তী আয় করেছিল ২০ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ৮০ পয়সা এবং মুনাফা করেছিল ছয় কোটি ১৪ লাখ টাকা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানি ৬৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এ সময় কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে চার টাকা ৮১ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৪৮ পয়সা। ওই বছর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর ২০১৪ সালে ১৯৫ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস ছিল পাঁচ টাকা ৮১ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছিল ২৪ টাকা ১৮৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে সাত টাকা ৭৯ পয়সা ও ৫৩ টাকা ৬৪ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট সাত কোটি ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯১টি শেয়ার রয়েছে।

মোট শেয়ারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে দুই দশমিক ৬৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।