প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দিতে কম সুদে আমানত লাগবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে এবিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আমানত বাজারে টান চলছে। সঞ্চয়পত্রের ওপর করারোপ করার ফলে আমানত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অঙ্কে) সুদহার বাস্তবায়ন করতে ছয় শতাংশ সুদে আমানত প্রয়োজন। এজন্য সরকার, ব্যাংকের উদ্যোক্তা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আমানতকারীসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
গতকাল বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ত্রৈমাসিক এই বৈঠকে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সমস্যার সঙ্গে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামানো, এসএমই সুদহার ও দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (মুখপাত্র) মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ‘সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার নামিয়ে আনতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো চেষ্টা করছে। সরকারি ব্যাংকগুলো সরকারের আমানত পাওয়ায় করতে পেরেছে। রাতারাতি যে সুদহার কমে আসবে, তাও নয়। বেসরকারি ব্যাংকগুলো যে শুধু সরকারের আমানত দিয়ে ঋণ দেবে তা নয়, বেসরকারি খাতের আমানতও ঋণ হিসেবে দেয়। আর খেলাপি ঋণের উচ্চহারও এজন্য দায়ী। তারা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একটি আরেকটির সঙ্গে রিলেটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকও চাচ্ছে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হোক।
ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, না কোনো চাপ নেই। তারা যেহেতু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, করবে। সরকারও সহযোগিতা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, খুব দ্রুত সময়ে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামবে।’
বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়ে নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে অনেক বিষয় আছে। তবে আশা করছি ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়িত হবে।
এটি দেশের উন্নয়নের জন্য করা উচিত। এখন এটি কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা। এজন্য কাজ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আমানতকারীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার দায়িত্ব আছে। সব ব্যাংকের দায়িত্ব হচ্ছে এটি নিয়ে কাজ করা।
খেলাপি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি নিয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদায় ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গত মার্চের তুলনায় জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার কমে আসবে। তবে কবে নাগাদ ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে, তা বলা সম্ভব নয়। তবে কমছে।
আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমতে শুরু করেছে এবং রেমিট্যান্স বাড়ছে। এর সুবিধা পাবে ব্যাংক। এটি মূল সমস্যা নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে আমানত সংগ্রহ।
সরকারের দেওয়া আমানত ছয় শতাংশে ব্যাংকগুলো পাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্যাংকগুলোর কাছে খোঁজ নিলে জানা যাবে, ছয় শতাংশ সুদে সরকারি আমানত পাচ্ছে কি না।
প্রসঙ্গত, প্রতি তিন মাস পরপর ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে দেশের ব্যাংক খাতের বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল ছিল বছরের দ্বিতীয় বৈঠক। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরি, ডেপুটি গভর্নর এসএম মিনরুজ্জামানসহ অন্যান্য ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..