প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিটিং সার্ভিস বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীপরিবহনে সিটিং সার্ভিস থাকা না থাকা বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের সুপারিশমালা পর্যালোচনা করে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর ইকোনমিক লাইফ বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। এ মতামতের ভিত্তিতে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে স্বল্পসময়ে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশমালা প্রণয়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের এঙ্গেল, হুক এবং অবৈধ বাম্পার অপসারণ কাজ এগিয়ে চলছে। দ্রæত এ কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছে উপদেষ্টা কমিটি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইকসহ অনুরূপ যানবাহন চলাচল বন্ধে ইতিপূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। যাত্রীচলাচলের সুবিধার্থে স্বল্পদূরত্বে বাস চলাচলে পরিবহন মালিক সমিতি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিআরটিসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে যাত্রীচাহিদা ও রুট পর্যালোচনা করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজান খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জুয়েনা আজিজ, বাংলাদেশ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান, ডিআইজি (হাইওয়ে) মো. আতিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার রাস্তায় যাত্রী হয়রানি ও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সিটিং সার্ভিস তথা গেটলক সার্ভিস বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর কয়েক দিন বন্ধও থাকে সিটিং সার্ভিস। মালিক শ্রেণির দাবির ভিত্তিতে ফের চালু করা হয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এ বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য। ওই কমিটি আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।