প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান না মানলে জরিমানা ১০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইন ভঙ্গে শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আইন, ২০১৬-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যান না মেনে জমি ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৬-এর খসড়া এবং বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ১৯৫৯ সালের। আমাদের নতুন আরও কয়েকটি কর্তৃপক্ষ হয়েছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এগুলো একটু মডার্ন আইন। ওই আইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ আইনটাকে আপডেট করা হয়েছে।’

‘নতুন আইনে জেল ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যানের জমি যদি কেউ বিধি-বিধান অনুসরণ না করে ব্যবহার করে, তাকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এক্ষেত্রে আগে প্রথম দিনের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং এরপর প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানার বিধান ছিল।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘(কর্তৃপক্ষের) চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃপক্ষের কোনো পদে বহাল থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যবসা করলে শাস্তি হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। আগের আইনে এক্ষেত্রে বলা ছিল দণ্ডবিধির ১৬৮ অনুযায়ী শাস্তি হবে।’

রাস্তা থেকে সীমানা প্রাচীর, খুঁটি, বাতি ইত্যাদি অপসারণে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, আগের জরিমানা ২০০ টাকা ছিল বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব স্থাপনার (সরানোর) জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো অপসারণে কোনো মালিকের অপারগতার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি পাকা দালানের ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা ও পাকা দালান নয় এমন ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা।’

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৬

মন্ত্রিসভায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৬’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, নতুন আইনটি মূলত ১৯৭৭ সালের যে অর্ডিন্যান্স সেটাকে রিপ্লেস করার জন্য। মন্ত্রিসভা ও সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্ত হলো, যে আইনগুলো সামরিক শাসনামলে হয়েছে, সে আইনগুলো রিপ্লেস করতে হবে। সেই বাধ্যবাধকতায় এ আইনটি আনা হয়েছে। নতুন আইনে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন করা হয়নি। ইংরেজি আইনটি বাংলা করা হয়েছে।’

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিরপুরে অবস্থিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধানের বর্তমান পদবি পরিচালক। নতুন আইনে এটাকে আপগ্রেড করে মহাপরিচালক নাম দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। গবেষণাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ।’

‘পরিচালনা পরিষদটি বাড়িয়ে-কমিয়ে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হবেন এ পরিষদের চেয়ারম্যান। এ কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হবে ২০ জন। মনোনীত সদস্যরা দুই বছরের জন্য কাজ করবেন। এ কমিটি বছরে কমপক্ষে বছরে দুবার সভা করবে।’

এছাড়া দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে নতুন আইন অনুযায়ী মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি নির্বাহী কমিটিও থাকবে বলেও জানান তিনি।

ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন অনুমোদন

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬-এর খসড়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘এটি ১৯৮২ সালের একটি অর্ডিন্যান্স ছিল। সামরিক শাসনামলের আইন হওয়ায় ও বাংলায় করার বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এটি আনা হয়েছে। এখন মূলত ইংরেজি আইনটি বাংলায় করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল কার্যকর আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১৫০ জন ভেটেরিনারি সার্জেন্ট গ্রাজুয়েটকে রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে।’