দিনের খবর স্পোর্টস

সিনিয়রদের উৎসাহে বদলে গেছেন আফিফ-বিপ্লবরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত রোববার আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের খেলায় সেটা টের পাওয়া যায়নি। তারা উঁচু মানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। যে কারণে তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে মাতামাতি। গতকাল রাজকোটে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই আফিফ জানিয়ে দেন, দলে নতুন সদস্যদের ভালো করার পেছনে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়ররা। তাই আমরা চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পেরেছি। 

গেল রোববার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতকে ৭ উইকেটে হারানো ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন আফিফ ও বিপ্লব। অফ স্পিনে ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন আফিফ। বিপ্লবও ৩ ওভার হাত ঘুরিয়েছিলেন। ১৮ রানের বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন ২ উইকেট। ফলে ভারত পুরো ২০ ওভার খেলে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান করে। জবাব দিতে নেমে টাইগারদের বেশ ভালো শুরু এনে দেন নাঈম। ২৮ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ২৬ রান করেছিলেন তিনি। এরপর সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহদের ব্যাটে চড়ে ৩ বল হাতে রেখে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রাজকোটে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত। তার আগে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অলরাউন্ডার আফিফকেও দেখা গেল সে মুডে। একপর্যায়ে এ অলরাউন্ডার বলেন, ‘ভারত চাপে আছে কিনা বলতে পারব না, তবে প্রথম ম্যাচ জিতে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভালো বোধ করছি। এটা আমাদের আরও ভালোভাবে খেলতে সাহায্য করবে।’

প্রথম ম্যাচে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের সামনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভালো খেলার রসদটা কোথা থেকে পেয়েছিলেন টাইগার জুনিয়ররা? উত্তরটা আফিফ দিয়েছেন সোজা ব্যাটেই, ‘দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা আমাদের মতো জুনিয়র ক্রিকেটারদের অনেক বেশি সাহায্য করেছেন। এটা আমাদের চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করেছে। সেই সঙ্গে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে। তারা সব সময় আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য আশা করি, সামনেও কোনো সমস্যা হবে না।’

গেল সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন আফিফ। কিন্তু সে সুযোগে গেল রোববার পাননি তিনি। সামনে সুযোগ এলে ব্যাটিংয়েও অবদান রাখার চেষ্টা করবেন তিনি, ‘আমি অবশ্যই একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। তবে শেষ ম্যাচে আমার ব্যাটিংয়ের সুযোগ আসেনি। বোলিংয়ের সুযোগ এসেছিল। সেখানে আমি পারফর্ম করার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিংয়ের সুযোগ এলে আমি একইভাবে চেষ্টা করব পারফর্ম করার।’

দিল্লিতে জিতে আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জেতার ভাবনা মনে এনে নিজেদের অহেতুক চাপে ফেলার কোনো কারণ তারা দেখছেন না আফিফ, ‘ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো। আমরা পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবছি। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেখা যাবে। আপাতত সবার জায়গা থেকে আমাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করার চেষ্টা করব। ম্যাচ জিতলে আসলে তেমন ভুল বের হয় না। এরপরও ব্যক্তিগতভাবে যার যে ভুল-ত্রুটি ছিল, সে সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে।’

সর্বশেষ..