দিনের খবর শেষ পাতা সুশিক্ষা

সিন্ডিকেটে উপেক্ষিত জকসু আইন

হারুনুর রশিদ, জবি: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত ছাত্র সংসদ চায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গঠনতন্ত্র তৈরি হলেও উপেক্ষিত হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়।

জানা যায়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু ‘জকসু আইন প্রণয়ন’ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

সূত্রমতে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) বিষয়ে কোনো ধারা বা উপধারা না থাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ওই ধারা বা উপধারা সংযোজন ও ‘জকসু’ গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাসকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই কমিটিকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ প্রদান ও ‘জকসু’ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর কমিটি ৪৮ দিনের মাথায় তাদের পক্ষ থেকে আইন সংশোধন ও গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া উপাচার্য বরাবর জমা দেন।

এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) গঠনতন্ত্র মতামতের জন্য উš§ুক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য গঠনতন্ত্র রাখা হয়। ৯০ দিনের মধ্যে জকসু গঠনতন্ত্রের ওপর মতামত দিতে বলা হয়। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতে সর্বশেষ জকসুর গঠনতন্ত্র পরবর্তী অর্থাৎ ৮১তম সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু ৮২তম সিন্ডিকেট সভা শেষ হয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের চূড়ান্ত গঠনতন্ত্র।

সিন্ডিকেটে জকসু আইন প্রণয়নে ধীরগতি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আশ্রাফুল ইসলাম টিটন বলেন, ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র সংসদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে কোনো দাবি উত্থাপন করা যায়। এই করোনাকালীন মুহূর্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে বিড়ম্বনা হচ্ছে, তা জকসু থাকলে সমাধান করা সহজ হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অতি দ্রুত জকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়ে জকসু নির্বাচনের ব্যাবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জকসু চাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদ, জবি শাখার সভাপতি রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘দেশের আগামীর নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য জকসু নির্বাচন আবশ্যক। তাই আমরা জকসুসহ সাত দফা দাবিতে অনশন করেছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাস ছিলো এই বছরের শুরুতে নির্বাচন দেওয়ার, কিন্তু করোনার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন চাইলেই সিন্ডিকেটে জকসু গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়ে দিতে পারত। যদি জবি প্রশাসন সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়, তাহলে জকসু নিয়ে কেন এত টালবাহানা তা বোঝা মুশকিল। আমরা চাই অতি দ্রুত জকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়ে জকসু নির্বাচনকে এক ধাপ এগিয়ে রাখা হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।’

জকসু আইন প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ছিল গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে দেওয়া এবং সেটা আমি দিয়েছি, বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে উপাচার্য স্যার ভালো বলতে পারবেন। তবে বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের (জকসু) ১৪টি নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে ১৯৫৪ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রথম নির্বাচন হয়। এরপর স্বাধীনতার (১৯৬৯) আগ পর্যন্ত ছাত্র সংসদের ১০টি কমিটি নির্বাচিত হয়। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২, ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালে জকসুর আরও চারটি নির্বাচন হয়। তবে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের বিধান যুক্ত করা হয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..