কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

সিমটেক্সের আর্থিক প্রতিবেদনে সম্পদের অসম্পূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত সম্পদের প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত নেই। ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে ১৩৩ কোটি ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৭ টাকার প্রোপার্টি, প্লান্ট এবং ইকুইপমেন্ট প্রদর্শিত হয়েছে। তবে কোম্পানির নিরীক্ষক তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই সম্পদের ফিক্সড অ্যাসেটের রেজিস্টার যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। এমনকি সম্পত্তির শনাক্তকরণ সংখ্যা, অধিগ্রহণের তারিখ, ক্রয়ের খরচ, সম্পত্তির শ্রেণি ও অবচয়ের কোনো তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেনি। আপডেট রেকর্ড, সম্পূর্ণতা এবং সত্যতার অভাবে ফিক্সড অ্যাসেটের সন্ধান খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। সম্পদের তথ্যের এই অসম্পূর্ণতার কারণে কোম্পানির নিরীক্ষক তার প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সম্প্রতি কোম্পানিটি তার প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৩২ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩২ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ২১ টাকা (৩০ জুন ২০২০ তারিখে) ও ৪৬ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৬৪ পয়সা, আগের বছর ছিল এক টাকা ২১ পয়সা।

এছাড়া ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতীত) পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই হিসাববছরে ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৯৮ পয়সা (লোকসান)।

এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ডিএসইতে অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি সর্বশেষ ১৪ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে দুই লাখ ৩১ হাজার ৯৭৮টি শেয়ার মোট ৯৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১২ টাকা থেকে ২২ টাকায় হাতবদল হয়।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় করেছে দুই টাকা এক পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৭৯ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট সাত কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১টি শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৫১ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..