আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা বাণিজ্য সংবাদ সারা বাংলা

কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

শরীফুল ইসলাম ইন্না.সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, কাজীপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি ও সদর উপজেলার শত শত বিঘা পাকা ধান এখন পানির নিচে। কৃষক যে স্বপ্ন দেখেছিলো আর কয়েক দিন পরই স্বপ্নের পাকা ধান উঠবে ঘরে। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্ন এখন পানির নিচে। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতশত বিঘা পাকা ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তাই কৃষক।

গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণের ফলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান। ওইসব ধান কেটে ঘরে তুলতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

যমুনা নদী বিধৌত সদর, কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর, বেলকুচি এবং চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পাট, সবজি এবং তিলের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির পাকা ধান। পানিতে নিমজ্জিত ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষকেদর বেশি শ্রামিক লাগাতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজিপুরের নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চালিতাডাঙ্গা, ও গান্ধাইল, সদরের মেছড়া ও কাওয়াকোলা, বেলকুচির সদর ও বড়ধুল, চৌহালীর ঘোরজান, স্থল, খাস কাউলিয়া, বাগুটিয়া, শাহজাদপুরের জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শত শত বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

অপরদিকে, চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ধানও ডুবে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ধান ডিঙি নৌকা ও এক ধরনের ষ্টিলের কড়ই ব্যবহার করে ডুব দিয়ে কাটছে কৃষকেরা। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগাতে হচ্ছে।

কাজিপুরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, কয়েকদিন আগে ধান পাকলেও বৃষ্টির কারণে কাটতে পারিনি। এরই মধ্যে যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে ধান তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলছি।

গাড়াবেড় গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, কাটবো কাটবো করেও সময় পাইনি। হঠাৎই বৃষ্টি হওয়ায় এখন বিপদে পড়েছি।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নন্দলালপুর হুরাসাগর নদীর উপর নির্মিত ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোর ধান গভীর পানির নীচে তলিয়ে গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বাঁধ ভাঙ্গার পর পানির প্রবল চাপে বিলের মধ্যেকার পাকা ধান প্রায় পানির নিচে তলিয়ে যায়।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস ছালামের বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসে বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এলাকার নিচু জমিগুলো তলিয়ে গেছে। এতে সবজি, পাট ও তিলের পাশাপাশি পাকা ধানও পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ১০ দিন আগেই পাকা ধান কাটার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিং শুনে অনেকেই ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। যারা নির্দেশনা শোনেননি তাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার লুতফুন্নাহার লুনা বলেন, চলন বিলের নিম্নাঞ্চলের ধানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ ধানই কাটা হয়ে গেছে। এখন প্রায় ১শ বিঘার মতো ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: হাবিবুল হক জানান, জেলায় মোট এক লাখ ৪১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩৮ হেক্টর অর্থাৎ ৭১ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এখনও ২৯ ভাগ জমির ধান মাঠে রয়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলোও কাটা শেষ হয়ে যাবে। নিচু অঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে গেলেও সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। এ কারণে পাকা ধান নিমজ্জিত হওয়ার হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে এসব ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের খরচ বেড়ে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..