সারা বাংলা

সিরাজগঞ্জে দুদিনে শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন

প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ: যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুলসহ বহু স্থাপনা। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বসতবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনায়েতপুরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর চার দফা বন্যার পর সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করে। হঠাৎ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেতে  শুরু করে যমুনায়। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এনায়েতপুরে শুরু হয় ব্যাপক নদীভাঙন। গত দুই দিনে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ ও মাদরাসা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অনেকে কিছুই সরানো যায়নি। মুহূর্তের মধ্যে নদীতে ধসে পড়ে তাদের বসতবাড়ি।

অব্যাহত ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে এনায়েতপুরের পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চৌহালী উপজেলাধীন দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বহু তাঁত কারখানাসহ হাটবাজার যমুনার অদূরে রয়েছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন যমুনাপারের মানুষ। সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অনশন পালন করেন স্থানীয় দুই বৃদ্ধ। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বৃদ্ধের অনশন ভঙ্গ করান।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ও পাকুরতলা গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, দুদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির সময় ভাঙন ঠেকাতে জরুরি কিছু কাজ করা হলেও স্থায়ী কাজের অভাবে এখন হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল এলাকা। দ্রুত কাজ করা না হলে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বৃহৎ একটি জনপদের।

অনশনরত ইয়াসিন প্রামাণিক বলেন, ৮০ বছরের জিন্দিগিতে সাতবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছি। ভাঙতে ভাঙতে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চাই। বাঁধ নির্মাণের দাবিতে অনশনে বসেছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, কাজীপুরের পাটাগ্রাম ও এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে কৈজুড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত। এই দুটি স্থানে ভাঙন রয়েছে। ভাঙন রোধে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করতে পারব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..