প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ বন্ধ ৮৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে গত দুই সপ্তাহ টানা যমুনা নদীসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় জেলায় ৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৪০০ পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বন্যাকবলিতদের মধ্যে ১৪০ মেট্রিক টন চাল, ৬ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার নিজ নিজ উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেগুলো দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মজুত রয়েছে ৭৭১ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে বিশেষ বরাদ্দের জন্য ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যায় জেলায় প্রায় ৫৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে বন্যার্তদের জন্য ১৮৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের চিকিৎসার জন্য ২৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক কাজ করছে এসব টিম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি বাড়ায় জেলার নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে ৯ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির রোপা আমন, পাট, তিল, মরিচ, বাদাম, বোনা আমন, শাকসবজি, বীজতলাসহ উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় কৃষক।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফীউল্লাহ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম মণ্ডল জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নদী-তীরবর্তী ও নি¤œাঞ্চল এলাকার ৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত পরিষ্কার করে পাঠদান শুরু করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, জেলার কাজিপুর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি সব পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার নি¤œাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সেটা স্বাভাবিক বন্যা। এ জেলায় প্রতি বছরই এমন বন্যা হয়ে থাকে। নদীর অভ্যন্তরীণ নি¤œাঞ্চল ও নদী-তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

সিরাজগঞ্জ ডিসি ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, সব সময় জেলার বন্যার্ত মানুষের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও নিজ নিজ উপজেলার ইউএনওরা নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের জন্য ৯১১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২০ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। ইতোমধ্যে ১৪০ মেট্রিক টন চাল, ৬ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করা হয়েছে।