সম্পাদকীয়

সিরামিক প্রস্তুতকারী দেশীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিন

আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এটির ওপর একক নির্ভরতা কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একক কোনো পণ্যের ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই, উচিতও নয়। কোনো কারণে ওই পণ্যের বাজারে ধস নামলে পুরো বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচব প্রভাব পড়বে। তাই পণ্য বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে সিরামিক পণ্যের রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

একসময় উচ্চবিত্তের খাবার টেবিলে টেবিলওয়্যার হিসেবে শৌখিনতার জন্য সিরামিক পণ্যের ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। এটি এখন কেবল শৌখিনতা নয়, বরং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে গণ্য। এর ব্যবহারও বহুমুখী টেবিল, টাইলস ও স্যানিটারি। গৃহস্থালি জিনিস ছাড়াও নির্মাণ ও আবাসন খাতে এর ব্যবহার অনস্বীকার্য। এখন একটি বৃহৎ শিল্পে রূপ নিয়েছে আমাদের সিরামিক খাত।

বাংলাদেশে সিরামিকস পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিসিএমইএ’র তথ্যমতে, বর্তমানে ৬৬টি ব্র্যান্ড ছাড়াও ছোট-মাঝারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ খাতে। সরাসরি ৫৫ হাজার কর্মীর পাশাপাশি সংযুক্ত শিল্প মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

একসময় আমাদের চাহিদার ৯০ শতাংশ সিরামিক পণ্যই আমদানি করা হতো, প্রায় ৮৫ শতাংশেরই জোগান দিচ্ছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রও আসছে এ খাত থেকে। বাংলাদেশের সিরামিকস শিল্প নিয়ে একটি গবেষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি। সংস্থাটি সিরামিকস শিল্পকে আমাদের সবচেয়ে উদীয়মান খাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

দেশি-বিদেশি সমীক্ষায় সর্বাপেক্ষা উদীয়মান শিল্পের তকমা পাওয়া সিরামিক খাতে আমাদের মনোযোগ বাড়ানো উচিত। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ‘সিরামিক খাতে বাড়ছে বিদেশপ্রীতি!’ সেটি প্রমাণ করে না।

খবরে বলা হয়, ২০ দিনের মধ্যে দুবার ট্যারিফ হ্রাস করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দেশীয় স্যানিটারি পণ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, বাজেটে দেশীয় স্যানিটারি পণ্যে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। আমদানি করা স্যানিটারি পণ্যে শুল্ককর বাড়ানো হয়নি। ফলে বাজারে তারা টিকতে পারবেন না।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা জরুরি, সেখানে দেশীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের পণ্যও বিশ্বমানের। কিন্তু বিদেশি টাইলসের দাম কমে গেলে সেটিতেই কিনবেন ক্রেতারা। দেশীয় স্যানিটারি পণ্যে সম্পূরক শুল্ক আরোপে দেশীয় উদ্যোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দেশের অর্থনীতিতে সিরামিক খাতের অবদান এবং রপ্তানিপণ্য হিসেবে সিরামিক সামগ্রীর সম্ভাবনার সুফল পেতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। যেখানে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে করোনাকালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, তখন এনবিআর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..