বিশ্ব সংবাদ

সিরিয়ায় সেনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক : সিরিয়ায় রাশিয়ার বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাড়তি ছয়টি অস্ত্র সজ্জিত ট্যাংক এবং শতাধিক সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র । গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মার্কিন ও রুশ বাহিনী নিয়মিত টহল দেয়। এ বছর দুই বাহিনী বেশ কয়েকবার মুখোমুখি হওয়ায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে।

গত শুক্রবার ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’-এর এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে প্রয়োজনে অবশ্যই যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দেবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ না করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা রাশিয়াকে স্পষ্ট করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত কমিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা মেনে চলার কথা বলছি। সেখানে রাশিয়া ও অন্যান্য দলের সব ধরনের অপেশাদার, অনিরাপদ ও উসকানিমূলক কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, ‘উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার একটি ‘নিরাপদ জোন’ যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ও কুর্দিরা কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেখানে রুশ বাহিনীর প্রবেশ আটকাতেই নতুন করে সেনা ও সাঁজোয়া যান পাঠানো হয়েছে।’ গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের একটি দল রাশিয়ার একটি সাঁজোয়া যানের মুখোমুখি হয়ে গেলে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাত সেনা আহত হন। লড়াইয়ের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সরকার এ ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রুশ সেনারা তাদের নিরাপদ জোনে প্রবেশে করেছে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী সেখানে তাদের প্রবেশ করার কথা নয়। অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আগেই ওই এলাকায় টহল দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এখনও প্রায় ৫০০ সেনা মোতায়েন আছে। তারা সেখানে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি বাহিনীকে সহায়তা করে। অন্যদিকে রুশ বাহিনী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের হয়ে লড়াই করে। ২০১৯ সালের ?অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে এক হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার কয়েক ?মাস পর তিনি বলেন, সিরিয়ার তেল কূপগুলোর সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সেনাকে দেশটিতে মোতায়েন রাখবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..