সারা বাংলা

সিলেটের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম

প্রতিনিধি, সিলেট: বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সিলেটে পাইকারি ও খুচরা বাজার অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে। কখন কোন পণ্যের দাম বাড়ছে বা কমছে, তার কোনো হিসাব নেই। চলতি সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্থিতিশীল হলেও বাড়তির দিকে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও বেশকিছু শাকসবজির দাম। এ অবস্থায় ভোক্তাদের নাভিশ্বাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, সিলেটে গত তিন-চার দিন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তারপরও বৃষ্টিসহ নানা কারণে বিক্রি তেমন একটা বাড়ছে না। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মোটামুটি বিক্রিতে আড়ৎ ব্যবসায়ীরা হতাশ। গত রোববার কালিঘাট পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ ও ৭০ টাকায়। একই পেঁয়াজ গত মঙ্গলবার বিক্রি হয় ৬০ ও ৬৫ টাকা। অর্থাৎ গত পাঁচ দিনে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা।

আবার, খুচরা বাজারে এলসি পেঁয়াজ একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পেঁয়াজের ধরন অনুযায়ী প্রকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৭০, ৭৫ ও ৮০ টাকায়। একই পেঁয়াজ গত মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ৬৫ ও ৭০ টাকায়। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ হোসেন ও খুচরা বিক্রেতা আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানান।

এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল (পাম ওয়েল) ১৫ টাকা, সয়াবিন তেল গড়ে পাঁচ টাকা, প্রতি কেজি মুগ ডালে ১৫ টাকা। নগরীর খুচরা বাজারে পাম ওয়েল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দু’দিন আগেও এ তেলের দাম ছিল ৭২-৭৫ টাকা। প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৪৮০-৫০০ টাকায়। আগে প্রকারভেদে এ তেলের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৮০ টাকা।

এছাড়া প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে ১২৫-১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১১০-১১৫ টাকা। মশুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৭ টাকায়। দু’দিন আগে দাম ছিল ৬৩ টাকা। পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে এখনও প্রভাব পড়েনি। গতকাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি চিনি ৫৮-৬০ টাকায়।

জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শুকনো মরিচ ২৪০, রসুন দেশি ৮০-১০০, আদা দেশি ১০০, বার্মিজ ১৪০ ও চায়না ২৭০, আলু বড় ৩৪-৩৫ ও ছোট ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, পাইকারি বাজারে চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় কমপক্ষে এক-দেড়শ’ টাকা বেড়েছে। সে অনুপাতে খুচরা বাজারে এখনও বস্তায় ৫০ টাকার বেশি বাড়েনি। তবে, দু’একদিনের মধ্যে বাড়তি দরে চাল বিক্রি হবে বলে জানা গেছে।

গতকাল খুচরা বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট পদ্মা এরোমেটিক চাল ২৪০০-২৪৫০ টাকা, ২৮ মালা প্রকারভেদে ২৩০০-২৪০০ টাকা, চিনিগুড়া চাল সর্বনি¤œ চার হাজার ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, পেঁয়াজসহ টিসিবির চার পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে ভোক্তারা লাইন ধরে ন্যায্যমূল্যের এসব পণ্য ক্রয় করছেন। চাহিদা বাড়ায় প্রতি ট্রাকে পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন ভোক্তারা। অপরদিকে, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট নগরীতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করছে। এতে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানাসহ সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শাকসবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০, গাজর দেশি ৪০ ও চীনা ৬৫-৭০, করোলা ৫০, টমেটো ৯০-১০০, শশা ৬৫-৭০, ঢেঁড়শ ৪০, ঝিংগা ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, কাকরোল ৪০, পেঁপে ২৫, মুখি ৩৫-৪০, লতা বেগুন ৪০, পটোল ৫০, বরবটি ৫০, মুলা ৩৫, বাঁধাকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি পিস মিষ্টি লাউ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫৫ ও পানি লাউ ৪০-৫০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বিভিন্ন জাতের বিপুল পরিমাণ শাকসবজি রয়েছে। প্রতিদিন দু’একটির দাম বাড়তি কিংবা কমতির দিকে থাকলেও সপ্তাহজুড়ে বেশিরভাগ শাকসবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া, সামনে শীত মৌসুম হওয়াতে শাকসবজির দাম ধীরে ধীরে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..