প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘সিলেট থেকে নদীপথে কলকাতায় যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক:পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা সিলেট থেকে কলকাতায় নদীপথে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি। সিলেটে তো অনেক নদী-নালা আছে, সেগুলো উম্মুক্ত থাকবে। এসব নদীপথ ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের দিগন্ত উম্মোচন করা হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ও হচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নয়নের স্বার্থে সিলেটের সব ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকব।

গতকাল বেলা ২টার দিকে সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটে আমার অফিস আছে। আমার কাছে কিছু দাবি করতে হলে ঢাকায় যেতে হবে না। সিলেটের অফিসে লিখিতভাবে জানালেই আমার কাছে পৌঁছে যাবে। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সিলেটের কালিঘাটে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পর গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং এর সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারবে র‌্যাবের বিষয়ে তাদের ধারণা সঠিক নয়। তবে রাতারাতি পরিবর্তন হবে তা আমি আশা করি না। তারা যেভাবে র‌্যাবেরÑযে সংস্থাটি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও ভরসা পেয়েছেÑওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

র‌্যাবকে একটি ‘কার্যকরী সংস্থা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। এমনকি মার্কিন সরকার পর্যন্ত বলেছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাস, মাদক ও মানব পাচার রোধে সহায়তা করেছে র‌্যাব, যোগ করেন ড. মোমেন।

তিনি বলেন, র‌্যাবের কয়েক জন সদস্য যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যখন পুলিশের হাতে কেউ মারা যায় তখন তাকে বলা হয় ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এটি ঘটলে বলা হয় ‘দায়িত্ব পালনের সময়’ মারা গেছে। আর এ জন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে শাস্তি দেয়া হয় না।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ৬০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর এক লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়। তাই এটা বড় কোনো বিষয় না তাদের জন্য। কিন্তু একই জিনিস বাংলাদেশে ঘটলে তারা বলেন এনফোর্স ডিসঅ্যাপ্যায়েরিং।’