দিনের খবর শেষ পাতা

সীমান্তে প্রতিটি মৃত্যুই অনুশোচনীয়: জয়শঙ্কর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, সীমান্তে প্রতিটি মৃত্যুই অনুশোচনীয়। সীমান্তে মৃত্যু বন্ধের লক্ষ্যে আমরা চাই ‘নো ক্রাইম নো ডেথ’।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. এস জয়শঙ্কর। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সীমান্তে মৃত্যু বন্ধের লক্ষ্যে আমরা চাই, নো ক্রাইম নো ডেথ। সীমান্তে প্রতিটি মৃত্যুই অনুশোচনীয়।

দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ড. জয়শঙ্কর ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশ সফরে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ড. মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা খুব আনন্দের বিষয়, যার আমন্ত্রণ আমার জন্য সবচেয়ে সময়োচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি। এই সফর খুবই স্মরণীয় হবে, কারণ এটি কভিড মহামারির পর ভারতের বাইরে তার প্রথম এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সফর।’

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। কারণ, উভয় দেশ মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পালন করছে।’

তিনি বলেন, ‘উল্লিখিত তিনটি বার্ষিকীর প্রতি আমরা যে গুরুত্ব আরোপ করেছি এবং সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রতি আমাদের যে অপরিসীম সম্মান, তা এতে প্রতিফলিত হয়। আমাদের সম্পর্ক গৎবাঁধা অংশীদারির ঊর্ধ্বে এবং আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের বন্ধন শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং প্রগতিশীল দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উভয় পক্ষই এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, বিশেষত ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের তাৎপর্য আমাদের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতার মধ্যে নিহিত রয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে কেবল দক্ষিণ এশিয়ায়ই নয়, বিস্তৃত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও একটি মূল প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি। আমাদের সম্পর্কের প্রতিটি অর্জন সমগ্র অঞ্চলকে প্রভাবিত করে। সবাই জানেন যে, আমরা অন্যদের কাছে এই সম্পর্ককে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উদ্ধৃত করি। এ কারণেই আমরা নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পরিবহন ও সংযোগ, সংস্কৃতি, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক থেকে শুরু করে জ্বালানি ও আমাদের অভিন্ন সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্কের যৌথ বিকাশসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিকে সম্প্রসারিত করার জন্য কাজ করছি।”

গতকাল সকালে একদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সকালে বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। বঙ্গবন্ধু এয়ারবেজে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..