সারা বাংলা

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে কাহালু আদর্শ মহিলা কলেজ

পারভীন লুনা, বগুড়া: মানসম্মত লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও এগিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯টি বিষয় এবং ডিগ্রি (স্নাতক) পর্যায়ে ১০টি বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এছাড়া তিনটি বিষয়ে (সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোল) স্নাতক (অনার্স) খোলার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও তাইরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল লতিফ তিন দশমিক শূন্য দুই একর (প্রায় ১০ বিঘা) জমিতে ১৯৯৫ সালে উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কার্যক্রম শুরু হয় সে বছরের ১ জুলাই। পরবর্তী বছরের ২১ মে রাজশাহী বোর্ড মঞ্জুরি প্রদান করে। এমপিওভুক্ত কলেজটি ২০০১ সালের ১ অক্টোবর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং ২০০২ সালের ৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি পায়। বর্তমানে প্রায় ৭০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ে প্রায় ৭০০ ছাত্রীকে পাঠদান এবং পাঠদানে সহযোগিতা করছেন।
কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ও আধাপাকা টিনশেড ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে ছাত্রীদের। এছাড়া নেই মানসম্মত লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এরপরও শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ছাত্রীরা ভালো ফল করছে।
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আজমি, রুমিসহ অনেকে জানায়, উন্নত শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হলে তারা আরও ভালোভাবে পড়ালেখা ও ভালো ফল করতে পারবে। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মামুন-উর-রশিদ জানান, একাডেমিক ভবন থাকলে প্রতিবছর ফলাফলে এর ভালো প্রভাব পড়বে।
অধ্যক্ষ একেএম রেজাউল আখলাক জানান, কলেজের সব শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রী চরম কষ্টে তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলের দিক থেকে উপজেলায় ১০ বছরে সেরা হলেও কোনো একাডেমিক ভবন নেই। যদিও শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপতরে অনেক আগেই আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সরকার ওয়ান-স্টপ প্রকল্পের অধীনে একাডেমিক ভবনের প্রস্তাব এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। যা এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বিবেচনাধীন আছে। অচিরেই তা পাস হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..