সারা বাংলা

সুদের টাকার জন্য চাচাকে খুন ভাতিজাসহ আটক ২

প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মাস গেলেই ভাতিজাকে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা সুদ। আসল এক লাখ হিসাবের খাতায়। এভাবে চলছে টানা তিন বছর। এই সুদের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন অশীতিপর বৃদ্ধ চাচা আবদুল মালেক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্বমেড্ডা মহল্লার এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনির ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

গত সোমবার রাত ৮টায় আবদুল মালেক (৮০) হত্যার শিকার হন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্বমেড্ডার স্কুল মসজিদ এলাকার মৃত কাসেম আলীর ছেলে।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় অধিবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার এশার নামাজের পর মসজিদ থেকে বাড়িতে যাচ্ছিলেন আবদুল মালেক। পথিমধ্যে ভাতিজা মনির ও তার সহযোগীরা ওই বৃদ্ধের ওপর হামলা করে মারধর করে। এসময় তার চিৎকার-চেঁচামেচিতে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সংঘাত এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে শরিফ জানান, তিন বছর আগে তার চাচাতো ভাই মনিরের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য সুদে এক লাখ টাকা নেন। এরপর প্রতিমাসে সুদ বাবদ ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে আসছিলেন। তবে করোনার কারণে ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় সুদের টাকা দিতে পারছিলেন না, এক মাসের সুদ জমে যায়।

এ নিয়ে কলহ লাগলেও গতকাল সুদের ২০ হাজার টাকা দেওয়ার তারিখ ছিল। তিনি বলেন, ‘এর আগেই মনির তিন-চারজনকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদ থেকে ফেরার পথে বাবাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েও বাবাকে বাঁচাতে পারিনি। আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..