প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সুনামগঞ্জে আ.লীগের সম্মেলনে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম আজমল হোসেন চৌধুরী। তিনি কুলঞ্জ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের বিএডিসি মাঠে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আজমল হোসেন চৌধুরীর ভাগ্নে রহমত আলী বলেন, আমি ও মামা একসঙ্গে সম্মেলনে ছিলাম। আমার ও মামার ওপর দুটি ঢিল এসে পড়লে মামা পিঠে আঘাত পান। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে গেলে তার অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।

দলীয় সূত্র জানায়, আমন্ত্রিত অতিথিরা মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্রোহী গ্রুপের সাবেক মেয়র মোশাররফ ও যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে একটি মিছিল সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করে মঞ্চ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও হামলা শুরু করে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা চেয়ার দিয়ে ঢাল বানিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।

১০-১৫ মিনিটব্যাপী চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছেন মঞ্চে থাকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুস সামাদ ডান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল কবির রুমন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান সেন্টু, কাউন্সিলর এবিএম মাসুম প্রদীপ, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়া, হাসান মিয়া, এমরান, রেজা মিয়াসহ অন্তত ২০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুল সামাদ আজাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি নোমন বখত পলিন, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার খানমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তারা চেয়ারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করেন।

পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের একঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের সম্মেলন শুরু হয়।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শাস্ত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া দাবি করেছেন, নিহত আজমল হোসেন চৌধুরী তার কর্মী। সংঘর্ষের সময় তার সামনে প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। অপরপক্ষ এটাকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে দাবি করছে।