সারা বাংলা

সুনাম কুড়িয়েছে নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টি

রোমান আহমেদ, নেত্রকোনা: বিশ্বের সব দেশ সব জাতি নিজস্ব গুণে পরিচিতÑহতে পারে সেটা ছোট কিংবা বড়। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা হাজার নদীর দেশ আমাদের মাতৃভূমিও রূপে-গুণে অনন্য। এর সুনাম জগৎজোড়া। আবার দেশের সব জেলার নিজস্ব খ্যাতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম নেত্রকোনা।

হাওর ও পাহাড়ের জেলা নেত্রকোনা। এখানে রয়েছে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে বিরিশিরি, চীনামাটির পাহাড়, রয়েলবাড়ী, গারোপাহাড়, সোমেশ্বরী ও কংস নদী উল্লেখযোগ্য। রয়েছে এখানকার বালিশ মিষ্টির খ্যাতি।

নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এ মিষ্টি খেতে বেশ সুস্বাদু। এটি রং, স্বাদ ও গন্ধে ভরপুর। এ মিষ্টি

আকার-আকৃতি অনুসারে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। এর দাম ২৫ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত হয়।

প্রায় ১০০ বছর আগে বালিশ মিষ্টির সূত্রপাত। গয়নাথ ঘোষ নেত্রকোণার বারহাট্টা রোডে একটি মিষ্টির দোকান চালাতেন। তিনি নতুন কিছু করতে মনস্থির করলেন। নিজস্ব  মেধা ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তিনি একটি সুস্বাদু মিষ্টি তৈরি করলেন, যা অন্য মিষ্টি থেকে আলাদা। এর নামকরণ করা হয় বালিশ মিষ্টি।

বালিশ মিষ্টি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বর্তমান বালিশ মিষ্টির তৈরির প্রধান কারিগর রতন পাল ও তার পাঁচ সহযোগী। প্রথমে গরুর খাঁটি দুধের চানার সঙ্গে পরিমাণমতো ময়দা দিয়ে ভালো করে মণ্ড বানানো হয়। মণ্ডগুলো বিভিন্ন আকারে তৈরি করে তেলে ভেজে ফুটন্ত চিনির রসে রাতভর ভিজিয়ে রাখা হয়। রাত পোহালে ক্ষীর বা ঘন মালাইয়ের প্রলেপ দিয়ে রসে টইটম্বুর এ মিষ্টি বিক্রি করা হয়।

নেত্রকোণা শহরের গয়নাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও খান হোটেলে এই বালিশ মিষ্টি পাওয়া যায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..