দিনের খবর শেষ পাতা

সুন্দরবনের অবস্থান বিপজ্জনক হয়ে গেছে: সুলতানা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবন নানা কারণে আজ বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। রাজনীতি দেশের ও জনগণের স্বার্থে হচ্ছে, নাকি মুষ্টিমেয় মুনাফালোভীর স্বার্থে হচ্ছে, তাও জাতিকে বুঝতে হবে।

গতকাল সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যৌথ উদ্যোগে ‘সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সাম্প্রতিক সভার সুপারিশ’ এর বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সুন্দরবন ইস্যু কেন্দ্র করে নিজ সংগঠনের এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি শক্ত মনিটরিং টিম গঠনেরও আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম সভায় ১৯৯টি বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনায় সুন্দরবনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

বক্তারা মনে করেন, কমিটি তার দুর্বল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুন্দরবনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়ে সুন্দরবন ইস্যু কেন্দ্র করে নিজেদের একটি শক্ত মনিটর টিম গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি সুলতানা কামাল এবং সঞ্চালনা ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবন নানা কারণে আজ বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন ইস্যুতে সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছে বলে মনে হয়। সেটির প্রমাণ গত ৪৪তম সভায় স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। রাজনীতি দেশের ও জনগণের স্বার্থে হচ্ছে, নাকি মুষ্টিমেয় মুনাফালোভীর স্বার্থে হচ্ছে, তাও জাতিকে বুঝতে হবে।’ সুন্দরবন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজ সংগঠনের এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি শক্ত মনিটরিং টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি।  

শরীফ জামিল বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির গত ৪৪তম সভায় বিশ্বের ১৯৯টি বিশ্ব ঐতিহ্য বিষয়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে সুন্দরবনের বিষয়টিও ছিল।’ কমিটি তার দুর্বল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুন্দরবনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এর স্বপক্ষে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের খসড়া সুপারিশ ও কমিটির সিদ্ধান্তের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

ওয়ার্ড হেরিটেজ ওয়াচের চেয়ারম্যান স্টিফান ডম্পকে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশন চলাকালীন আমরা কার্যত শক্তিহীন ছিলাম। সুতরাং, জনসাধারণের দ্বারা চাপ সৃষ্টি করা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন অবশ্য করণীয়।’

জেনেভায় জাতিসংঘে আর্থ জাস্টিসের স্থায়ী প্রতিনিধি ইভস লেডর বলেন, ‘জনগণের মতামত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউনেস্কোর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে সরকারের পরিবেশবিরোধী কৌশল অবলম্বন করার কারণে বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব, ডা.  আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমরা আমাদের সুন্দরবন রক্ষার চেষ্টায় করেছি। কিন্তু সরকার চায় না সুন্দরবন রক্ষা হোক। আমরা এলাকার সাধারণ মানুষ এবং দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকার সুন্দরবনের বিষয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে না।’ কিন্তু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দেন-দরবার করছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল বলে তিনি মনে করেন।

বেলার প্রধান নির্বাহী, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সরকারের যে প্রকল্পের জন্য নিজের দেশের জনগণের সমর্থন নাই, সেই প্রকল্পের জন্য বিদেশিদের সঙ্গে দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। আমরা পরিবেশের ক্ষতি না করে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ হারুন চৌধুরী,  তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, বেনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজেদ কামাল ও অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, বাপার কোষাধ্যক্ষ মহিদুল হক খান এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..