ফিচার

সুপার হোস্টেল বিডি ব্যাচেলরদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন

ইংরেজিতে ‘মেস’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘জগাখিচুড়ি’ বা বিশৃঙ্খল অবস্থা। তো মেস বাড়িগুলোর ছোট ঘিঞ্জি ঘর, স্যাঁতসেঁতে মেঝে, নোংরা পরিবেশ, অগোছালো ঘরদোর এমন চিত্র দেখতেই আমাদের অনেকে অভ্যস্ত। যদিও বা ভালো পরিবেশ মেলে তো বাসাটা হয় সাত-আটতলার ওপরে। নয়তো পানি, রাঁধুনি, কাপড় ধোয়া বা প্রতিদিনের খাবার নিয়ে হয় নিত্য হয়রানি। চলে বাদানুবাদ। রাজধানীতে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে অনেক ‘ব্যাচেলর’ মাথা পেতে মেনে নেন এসব ঝঞ্ঝাট। ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসেন, তাদের প্রায় সবাইকে এসব সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

নিউওয়েজ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেলসন ঝাং ও মুখ্য কর্মপরিচালন কর্মকর্তা জিমি ঝাং ২০১৪ সালে ঢাকায় ব্যাচেলরদের বিস্তর সমস্যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে নানা গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেন যে, ‘ব্যাচেলর সেবা’কেই তাদের পেশায় পরিণত করবেন। ২০১৭ সালে পুরোদমে শুরু করেন এ ব্যচেলর সেবা বা ব্যবসা।

সুপার হোস্টেল বিডির লবিতে প্রবেশ করে হোস্টেল বা মেস সম্পর্কে অনেকেরই আজš§লালিত ধারণায় একটা বড় ধাক্কা খেতে বাধ্য। সাজানো-গোছানো বসার জায়গা, একটু ভেতরে ডাইনিং। কোথাও এতটুকু ধুলোবালি বা মলিনতার ছাপ নেই; চারদিক একেবারে চকচকে। এ সুপার হোস্টেলের পরতে পরতে যেন জমানো রয়েছে বিস্ময়। এ ঢাকা শহরে বোধ করি সবচেয়ে অবহেলিত ও নিগৃহীত হচ্ছেন ব্যাচেলররা, যেন তারা মূর্তিমান উপদ্রব। আর এ উপদ্রবদের জন্য যে এত আরামদায়ক ও বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা রয়েছেÑতা বিস্ময়েরই বটে।

মানুষের মৌলিক চাহিদার ছয়টির তিনটি পূরণ করছে সুপার হোস্টেল। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ঘুম থেকে ওঠার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত যা প্রয়োজন, তার সবই তারা দিচ্ছেন মাত্র সাত থেকে আট হাজার টাকায়। কেবল নিজেকে আর সঙ্গে পরিধানের কয়েকটি কাপড় নিয়ে উঠলেই হলো, বাকিটা দেখবে সুপার হোস্টেল।

শোওয়ার ঘরগুলোর ধরন মাল্টি ফাংশনাল। সঙ্গে রয়েছে নিজস্ব ক্যাবিনেট। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। সুখের বিষয় হচ্ছে, সব ঘর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

এখন আসি আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে। সেটি হলো খাবার। জীবনের আর সব আয়োজনই বিফল হয়ে যায় যদি তিনবেলার খাবারটা ঠিকমতো উদরে না যায় কিংবা গেলেও তা যদি উল্টো অশান্তির কারণ হয়। রাজধানীর অনেক ব্যাচেলরের নিত্যসমস্যা অন্ন। কখনও রান্নার লোক আসে না তো কখনও রান্না করলেও তা মুখে দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না কিংবা সব ঠিকমতো হলেও পুষ্টিগুণটা থাকে না খাবারে। আর সুপার হোস্টেলের ব্যাচেলরদের জন্য অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য শেফদের দিয়ে রান্না করানো হয় প্রতিবেলার খাবার। খাবারের তালিকা তৈরি করা হয় পুষ্টিগুণ মেপে। ডাইনিং, যেখানে খাবার পরিবেশন করা হয়Ñসে জায়গাটি ভীষণ ঝকঝকে-তকতকে, দেখলেই যেন ক্ষুধার উদ্রেক করে!

কেবল থাকা আর খাওয়াতেই তো আমাদের জীবন সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা, বিনোদন। শরীরচর্চার জন্য রয়েছে আধুনিক জিমনেসিয়াম। হোস্টেলের সদস্যরা এখানে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারেন। টেলিভিশন দেখতে পারেন লবিতে বসে। খেলতে পারেন রুফটপ প্লে গ্রাউন্ডে।

এছাড়া প্রতিদিনের কাপড় ধুয়ে, শুকিয়ে তা আবার চাইলে ইস্ত্রিও করিয়ে নেওয়া যায়। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা ওয়াইফাই সুবিধা। অবাক হওয়ার কিছু নেই রাজধানীতে মাত্র সাত হাজার টাকায় এত সুবিধা পাচ্ছেন ব্যাচেলররা। তাদের জন্য এটা স্বর্গ হাতে পাওয়ার শামিল বললে অত্যুক্তি হবে না।

আরেকটি বিষয় যেটি চোখে পড়ার মতো, তা হলো হোস্টেলের অন্দরসজ্জা। দেয়ালের রঙ, আলোর কারসাজি, পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই উৎফুল্ল করে যে কোনো মানুষের মন।

মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ভদ্রলোক দেশে এসেই ওঠেন এখানে। তার মতে, এত ভালো সেবা এত কম টাকায় ভাবা যায় না! তিনি সন্তুষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি সদ্য উঠেছেন এ হোস্টেলে। মেস-বাসার নানা ঝামেলায় অতিষ্ঠ হয়ে এখানে এসেছেন।

শাহবাগে ১০০০ মানুষের ধারণক্ষমতা নিয়ে বিশাল পরিসরে করা হচ্ছে আরেকটি ব্রাঞ্চ। এখানে আধুনিক জীবনের আরও নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

জিমি ঝাংয়ের আরও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্প ঘিরে। রাজধানীর ১০০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শাখা খোলার ইচ্ছা রয়েছে তার, যাতে শহরের জ্যাম কর্মব্যস্ত মানুষের সময় নষ্ট না করে। কারণ, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়।

সুপার হোস্টেল বিডি একটি নিউ বিজনেস ভেঞ্চার। তারা কেবল মুনাফা করার জন্য ব্যবসায় আসেনি কিংবা নিছক সেবামূলক কাজ চালাতেও নয়। আসলে সেবার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনই তাদের কাজ।

এক কথায় ব্যাচেলর, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী যারা পরিবার থেকে দূরে থাকেন, তাদের জন্য সহজ-সুন্দর একটি সমাধান সুপার হোস্টেল বিডি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..