শোবিজ

সুরের জাদুকর আলম খানের ‘৭৫’

শোবিজ ডেস্ক:দেশের সংগীতাঙ্গনে সুরের জাদুকর আলম খান। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালক। গতকাল ছিল তার ৭৫তম জন্মদিন। তিনি ১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাথি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার সুরে গান গেয়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন অনেক শিল্পী। এ পর্যন্ত তার সুর ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গানের মধ্যে ওরে নীল দরিয়া, হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস, আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, কি জাদু করিলা পিরিতি শিখাইলা, তুমি যেখানে আমি সেখানে, সবাই তো ভালোবাসা চায়, ভালোবেসে গেলাম শুধু, চাঁদের সাথে আমি দেবো না তোমার তুলনা, আমি একদিন তোমায় না দেখিলে, তেল গেলে ফুরাইয়া, আমি তোমার বধূ তুমি আমার স্বামী, জীবনের গল্প বাকি আছে অল্প, মনে বড় আশা ছিল, সাথী রে যেও না কখনও দূরে, বেলি ফুলের মালা পরে, কাল তো ছিলাম ভালো, চুমকি চলেছে একা পথে, ভালোবাসিয়া গেলাম ফাঁসিয়া, তুমি কি এখন আমারই কথা ভাবছো, আকাশে তে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটাই রে প্রভৃতি এমন অসংখ্য জনপ্রিয় আরও অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। সংগীতজ্ঞ আলম খানের পুরো নাম খুরশিদ আলম খান। ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অন্যরকম। সে হিসেবে গানের ভুবনে প্রবেশ তার। ১৯৭০ সালে আবদুল জব্বার খানের কাচকাটা হীরে সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর অসংখ্য  সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেন। সৃষ্টি করেন একের পর এক শ্রুতিমধুর এবং জনপ্রিয় গান। তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ও সুরকার বিভাগে সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। বড় ভালো লোক ছিল, তিন কন্যা, সারেন্ডার, দিনকাল, এবং বাঘের থাবা সিনেমাগুলোর শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৮ সালে কি জাদু করিলা সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি পুরস্কার পান। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে হাবিবুননেসা গুলবানুর সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। গুলবানু একজন গীতিকার। তাদের দুই ছেলে আরমান খান ও আদনান খান দুজনেই সংগীত পরিচালক এবং একমাত্র মেয়ে আনিকা খান। বাবার নাম আফতাব উদ্দিন খান। মায়ের নাম জোবেদা খানম। পপসম্রাট আজম খানের বড় ভাই তিনি।

সর্বশেষ..