সম্পাদকীয়

সুষম ও টেকসই উন্নয়নে বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দিন

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ বেশ আলোচিত শব্দ। আয়বৈষম্য দূরীরকরণ ও টেকসই উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের জন্য নিশ্চিত করতে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। আর প্রশাসনিক স্তরে রয়েছে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা। কিন্তু এসব স্তরের ক্ষমতা ও কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ও ভারসাম্য রক্ষিত না হওয়ায় দেশ কাক্সিক্ষত উন্নয়নে সক্ষম হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আমাদের বিকেন্দ্রীকরণ নীতি কেবল বিভিন্ন সরকারের রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তি হিসেবেই ব্যবহার হয়ে আসছে। বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা ও আদর্শ কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থা তেমন সাফল্য পায়নি।
বঙ্গবন্ধুর আমলে গভর্নর প্রথা, জিয়াউর রহমানের গ্রাম সরকার কিংবা এরশাদ প্রবর্তিত উপজেলা পদ্ধতি স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তবে পরিপূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় স্তরগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও সচিবালয়ই মূলত নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় সরকারগুলোকে।
সাধারণ মানুষের মতে, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সুফল পেতে কেন্দ্রীয় সরকার বা এর প্রতিনিধি স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘সানেমের সম্মেলনে বক্তারা: টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন বহুমাত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সে বিষয়ই যেন নতুন করে উঠে এসেছে। সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম), সাউথ এশিয়া ইকোনমিক পলিসি নেটওয়ার্ক ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, স্থানীয় সরকারকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে প্রকৃত কার্যকর করতে হলে বহুমাত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। তা না হলে শুধু অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে দুর্নীতি হতে পারে। এছাড়া শুধু শহরের উন্নয়ন নয়, গ্রামের উন্নয়নেও বিশেষ নজর দিতে হবে।
সম্মেলনে বক্তাদের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মতামতই প্রতিফলিত হয়েছে বলেই ধারণা। আমরা মনে করি, শুধু ঢাকায় বা বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে গ্রাম ও জেলা-উপজেলা শহরে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এখন বেশিরভাগ সরকারি-বেসরকারি এমনকি প্রাইভেট কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। বিভিন্ন প্রয়োজনে নাগরিকদের ঢাকায় আসতে হয়। বিকেন্দ্রীকরণ অর্থাৎ গুরুত্ব অনুযায়ী কিছু অফিস বিভাগীয় শহরগুলোয় স্থানান্তর করলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে। বিকেন্দ্রীকরণ হলে সুষম ও টেকসই উন্নয়নে এটি ভূমিকা রাখবে। বিভাগীয় শহরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। ক্রমে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাপৃত হবে।

সর্বশেষ..