সুস্বাস্থ্য

সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পরিচ্ছন্নতা অঙ্গীকার

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত রাজধানীর পাঁচটি স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্কাউটস ও ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ। স্থানগুলো হচ্ছে গুলশান ১ ও ২ গোলচত্বর, আশকোনা, দক্ষিণখান রোড (২), এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন, মিরপুর-১৪ ও শ্যামলী সিনেমা হল সার্কেল। এসব স্থানে স্কাউটসের ছয় শতাধিক সদস্য সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
মানুষের মাঝে পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকারবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রভৃতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
রাকিবুল হাসান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আসলেই আমাদের জন্য প্রয়োজন। আমরা যদি পরিষ্কার থাকি তাহলে আমাদের সন্তানরা ভালো থাকবে। সেজন্য এখন থেকে আর ময়লা করব না এবং অন্যকাউকে করতে দেব না।
আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্তানের নামে আজ থেকে অঙ্গীকার করলাম, আমি আর কোনোদিন যত্রতত্র ময়লা ফেলব না। অন্যকেও ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেব।
স্কাউটসের রোভার রাতুল বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে পথচারীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিচ্ছি যে, তারা যেন কোনোদিন কোনো জায়গা ময়লা না করে। তাদের আশপাশের মানুষদেরও যেন সচেতন করে তারা।
নজরুল ইসলাম নামের এক পথচারী বলেন, আগে থেকে যদি পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া যেত, তাহলে হয়তো ডেঙ্গু মহামারির রূপ নিত না। আমি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করছি। আসুন, সবাই এ উদ্যোগে শামিল হই। ফাহির হোসেনের মতে, আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে উঠি, তাহলে হয়তো আর পরিচ্ছন্নতার জন্য রাস্তায় নামতে হবে না।
বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, ডেঙ্গুর মহামারির জন্য দায়ী অপরিষ্কার থাকা। আমাদের আশপাশ যদি পরিষ্কার রাখি তাহলে রোগবালাই থেকে মুক্তির পাশাপাশি নিজেদের মনও সুন্দর থাকে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ স্কাউটস ও ডেটল হারপিক একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সচেতনতা তৈরির জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অঙ্গীকার করতে হবে কোনোদিন কোনো জায়গায় ময়লা ফেলব না।
ক্যাম্পেইনে ‘ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’-এর পরিচ্ছন্ন দূত চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের। এ দায়িত্ববোধ থেকেই বাংলাদেশ স্কাউটস ও ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের সব মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে, যাতে সবাই সবার জায়গা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি।
ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের মুখ্য সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আহমেদ তারেক বলেন, তিন বছর ধরে ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্কাউটস। তাদের সহযোগিতায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। আসুন আমরা সবাই আমাদের প্রিয়জনদের নামে অঙ্গীকার করিÑআমাদের চারপাশসহ দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখি।
৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, এমপি। পরে শাহবাগ, টিএসসি, নীলক্ষেত ও কাকরাইলে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরাসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকার করে। ৪ সেপ্টেম্বর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি। ভবিষ্যতের সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০০ ছাত্রীর পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ করান তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও টিঅ্যান্ডটি হাইস্কুলে পরিচ্ছন্নতা অঙ্গীকারের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরা ১১নং চৌরাস্তা মোড় (জমজম টাওয়ার), কাকলি বাসস্ট্যান্ড, মৌচাক, ভিক্টোরিয়া মোড় (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সর্বশেষ..