Print Date & Time : 3 December 2020 Thursday 3:35 am

সুস্বাস্থ্যের জন্য অ্যালুমিনিয়াম পণ্য বর্জন করা উচিত

প্রকাশ: September 25, 2020 সময়- 01:36 am

সুস্বাস্থ্যের জন্য, শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখার জন্য, রোগ প্রতিরোধ করার জন্য পুষ্টিকর ও সতেজ খাদ্যের বিকল্প নেই। তবে রন্ধন প্রণালির দরুন যে পাত্রে রান্না করা হচ্ছে, সে পাত্রেও যে প্রতিনিয়ত বিষক্রিয়া হচ্ছে, সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কি অবহিত? আর এ বিষক্রিয়া ধীরে ধীরে আপনাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিল পাত্র রয়েছে মুখ্য চরিত্রে। ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, সৌন্দর্য, কম তেলে রান্নার সুবিধা এবং পরিষ্কার করতেও সুবিধা থাকার কারণে রন্ধনশিল্পীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিলের পণ্য। তাই দোকানে দোকানে রয়েছে বাহারি ডিজাইনের অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিলের পণ্য।   

তবে এই অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিলের পণ্য শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকি। চিকিৎসকের মতে, অ্যালুমিনিয়ামে আছে ক্ষতিকর আয়ন। আবার এসব অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোনো কোডিং থাকে না। এর ফলে যখন অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে হাতা ও খুন্তি দিয়ে রান্না করা হয়, তখন অ্যালুমিনিয়ামের কণা বা আয়নগুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় এবং খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। যখন আমরা এই রান্না করা খাবার খাই, তখন তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এভাবে আমাদের শরীরে আয়নগুলো ধীরে ধীরে জমতে থাকে। এভাবে জমতে থাকলে বা শরীর থেকে আয়নগুলো বের হতে না পারলে শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এর পরিণতি হতে পারে মৃত্যু। অ্যালুমিনিয়ামের আয়নগুলো মস্তিষ্কের টিস্যুগুলোর ক্ষতিসাধন করায় স্মৃতিভ্রমের মতো অসুখ দেখা দিতে পারে। অ্যালঝাইমার্স রোগের অন্যতম কারণ এই অ্যালুমিনিয়ামের আয়ন, যা থেকে পরবর্তীকালে হাড়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অস্টিওপরোসিস হতে পারে। এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। আর ননস্টিলে থাকে টেফলন, সিলভারস্টোন, অ্যানোলন, টেফাল প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ, যা খাবারের সঙ্গে মিশে খাবারকে দূষিত করে। টেফলন হচ্ছে এক ধরনের পলিমার। এতে ১৫টি বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে, যা রান্না করার সময় খাবারে মেশে আবার রান্নার সময় খাবারের ধোঁয়াতেও মেশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টেফলন ৬০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভাঙতে শুরু করে, আর সেইসঙ্গে তৈরি হয় বেশকিছু বিষাক্ত গ্যাস, যা কিডনিজনিত রোগ ও ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়া এসব উপাদান মানবশরীরের চরম ক্ষতি করে। বন্ধ্যাত্ব, ওজন বৃদ্ধি ও শিশুদের মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন তৈজসপত্রের ব্যবহার আমাদের পরিহার করতে হবে। শুধু খাদ্যের প্রতি সচেতন হলেই চলবে না, কেমন পাত্রে আপনার পছন্দের খাবার তৈরি হচ্ছে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। বিকল্প হিসেবে লোহা, সিরামিক বা মাটির পাত্র ব্যবহার করতে পারি। আপনি-আমি ধীরে ধীরে এসব পণ্য ব্যবহার করলে হয়তো দেখব তখন আর ননস্টিলের পণ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন মাটির বা সিরামিকের পাত্রই হবে রন্ধনশিল্পীদের মুখ্য পছন্দ। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আজই পরিহার করুন অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিলের তৈজসপত্র।   

খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়