প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক;সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়। এদিন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

গতকাল লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। লেনদেনের শুরুতে সূচকের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম কমেছে ২৮২টির, ৬২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে পেরেছে। ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৪৬ কোটি ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাইনপুকুর সিরামিক।

সবচেয়ে বেশি কমেছে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ছিল ১৫ টাকা। গতকাল লেনদেন শেষে এর সমাপনী দর দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩০ পয়সা বা ২ শতাংশ দর কমেছে। এর মাধ্যমে ফান্ডটি দরপতনের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ২, ন্যাশনাল পলিমারের ১ দশমিক ৯৯, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ১ দশমিক ৯৯, সিলভা ফার্মার ১ দশমিক ৯৯, নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ১ দশমিক ৯৮, ইউনিক হোটেলের ১ দশমিক ৯৮, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ১ দশমিক ৯৮, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ দশমিক ৯৮, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ দর কমেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪০৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৬ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৯৭ দশমিক ১১ পয়েন্টে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩২৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৯৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৫০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার।

ডিএসইতে ৩৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২টির বা ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৮২টির বা ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশের এবং ৩৮টির বা ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৫৯টির, কমেছে ১৯৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির। গতকাল সিএসইতে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।