দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

সূচকের সঙ্গে পাল্লা দিতে ব্যর্থ লেনদেন

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গত দুদিন ধরে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে। আগের দিন ৩১ পয়েন্ট ইতিবাচক হলেও গতকাল এক লাফে ৮১ পয়েন্ট বেড়ে গেছে সূচক। প্রথমার্থে বেশিরভাগ শেয়ারদর কম থাকলেও শেষার্ধে কেনার চাপ বেড়ে গেলে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। গত দুদিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ১১৩ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেন তলনিতেই রয়ে গেছে। ডিএসইর লেনদেন আড়াইশ’ কোটি টাকার আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। সূচকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেনদেন বাড়তে পারেনি। তবে সূচকের উল্লম্ফনে মূল ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মা ও গ্রামীণফোন। গতকাল ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন বাড়লেও দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল ব্যাংক, বিমা, আর্থিক খাত। তবে আশার কথা যে পুঁজিবাজারের চলমান সংকট কাটাতে চার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোনালী জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের ত্রিমাসিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নীতিনির্ধারণী সভায়ও কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বাজার ফের গতিশীল হবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে বাজারে কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে যেসব কারসাজি হয় সেগুলো বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারলে বাজার দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল হবে। বিনিয়োগকারীরাও আস্থা ফিরে পাবেন।

গতকাল মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে  ৭৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মা। কোম্পানটির দর বেড়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল।  বীকন ফার্মার পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯০ পয়সা। এরপরে ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে মাত্র একটি কোম্পানি দরপতনে ছিল। একটির দর অপরিবর্তিত ছিল। বাকি সবগুলোর দর বেড়েছে। পাঁচ শতাংশ বেড়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৪০ পয়সা। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনের আট কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। প্রকৌশল খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪৮ শতাংশের। বস্ত্র খাতে ১০ শতাংশ লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪৬ শতাংশের। রিং শাইনের পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৫০ পয়সা। প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে আনলিমা ইয়ার্ন দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। বিমা খাতে দর বেড়েছে ৯১ শতাংশ কোম্পানির। আট দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়ে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স ও সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়ে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। আর্থিক খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। পৌনে ছয় শতাংশ বেড়ে ফাস ফাইন্যান্স দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ ও সেবা ও আবাসন খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..