নিজস্ব প্রতিবেদক : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে রোববার দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিলেও আতঙ্ক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গতকাল সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ১৩৮ পয়েন্ট।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৪২টির। আর ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৮টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ছয়টির দাম কমেছে এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে আটটির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দুটির দাম কমেছে।
সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো
৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৯ কোটি ৯৫ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৫ কোটি ৫৬ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৬ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকার। ৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে-খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্যাংক এশিয়া, রবি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন এবং ইনটেক লিমিটেড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব স্বল্প মেয়াদে বাজারে আতঙ্ক তৈরি করলেও দেশের পুঁজিবাজারের মৌলিক ভিত্তি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার খবরের পর প্রথম দিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কজনিত বিক্রির চাপ তৈরি হয়। তবে পরদিন বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে যে এটি ছিল আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া, মৌলিক অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে নয়।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post