প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

সূচক ইতিবাচক করেছে ব্যাংক আর্থিক ও টেলিযোগাযোগ খাত

রুবাইয়াত রিক্তা: অবশেষে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক গতি ফিরতে দেখা গেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। এরপর সূচকের গতিপথ ঘুরে যায়। গত দুই কার্যদিবস ধরে সূচক ইতিবাচক গতিতে রয়েছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথমদিন বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতন হয়। সেই সঙ্গে লেনদেনও ৩০০ কোটি টাকার ঘরে আটকে ছিল। প্রায় ৪৯ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। তা সত্ত্বেও সূচক ইতিবাচক হতে দেখা যায়। সূচক ইতিবাচক করতে মূল ভূমিকা ছিল ব্যাংক খাতের। সেই সঙ্গে আর্থিক খাতেও বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। টেলিযোগাযোগ খাতও ভালো অবস্থানে ছিল। এ তিন খাতে শেয়ার কেনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। অন্যদিকে প্রকৌশল ও ওষুধ রসায়ন খাতে অধিকাংশ লেনদেন হলেও এ দুই খাত থেকে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল।
মোট লেনদেনের প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৪ শতাংশ হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় ৭৪ কোটি টাকা। দর বেড়েছে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির। এ খাতের ন্যাশনাল টিউবস গতকাল বাজারে নেতৃত্ব দেয়। সাড়ে ৩২ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ। কোম্পানিটি দর ও লেনদেন বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। এছাড়া মুন্নু জুট স্টাফলার্সের সাড়ে ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯২ টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে প্রকৌশল খাতের অ্যাপোলো ইস্পাত, মুন্নু জুট স্টাফলার্স ও এটলাস বাংলাদেশ। এসব শেয়ারের দর চার থেকে সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে ৩৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বীকন ফার্মার প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৮০ পয়সা। সিলকো ফার্মার সাড়ে আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৭০ পয়সা দরপতন হয়। এছাড়া বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় মাত্র ৯ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ২৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। স্টাইল ক্রাফটের সোয়া ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯ টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। ব্যাংক খাতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় দুই শতাংশ লেনদেন বেড়েছে। এ খাতে ৭৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। উত্তরা ব্যাংকের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৮০ পয়সা। আর্থিক খাতে তিন শতাংশ লেনদেন কমলেও দর বেড়েছে ৭৩ শতাংশ কোম্পানির। সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। পঞ্চম অবস্থানে থাকা জিএসপি ফাইন্যান্সের দর পাঁচ শতাংশ, আইপিডিসির দর পৌনে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। টেলিযোগাযোগ খাতের বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল্সের দর ছয় টাকা ৭০ পয়সা ও গ্রামীণফোনের দর চার টাকা ৩০ পয়সা বেড়েছে।

সর্বশেষ..